এ ধরনের খাদ্যের অভাবে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলের জন্যই প্রোটিন প্রয়োজন।
প্রোটিনের অভাবে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। প্রোটিনের অভাবে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, দেহ খর্বাকার হয় ও ওজন হ্রাস পায়, মেজাজ খিটখিটে থাকে। প্রোটিনের অভাবে প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম ঠিকমতো নিঃসৃত হয় না। ফলে পরিপাক ও পরিশোষণ ব্যাহত হয়।
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের অভাবে দেহের রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাব ঘটে, ফলে এনিমিয়া হয়। যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্রমের বিঘ্ন ঘটে প্রোটিনের অভাবে। এর ফলে যকৃতের স্থানে স্থানে চর্বি জমে। বয়স্কদের শরীরে শোথ বা ইডিমা দেখা যায়, ফলে হাত পায়ে পানি আসে, শরীর ফুলে যায়, হাঁটাচলায় অসুবিধা হয়। প্রোটিনের অভাবে শিশুদের কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। এর ফলে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও ওজন হ্রাস পায়। মাংসপেশি শুকিয়ে শরীর জীর্ণ হয়ে যায়। চামড়া ঢিলে হয়ে যায় ও কুঁচকে যায়। পায়ে শোথ দেখা যায়। মাথার চুল হালকা বাদামি রঙের হয় এবং চুল উঠে পাতলা হয়ে যায়। যকৃতের আকার বৃদ্ধি পায়, ক্ষুধামন্দা দেখা যায়। এ রোগে আক্রান্ত হলে শিশু উদাসীন হয়, কাজে কোন উৎসাহ থাকে না। ছোট শিশুদের খাদ্যে প্রোটিন ক্যালরিজনিত অপুষ্টির কারণে ম্যারাসমাস রোগ হয়। সাধারণত এক বছরের শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়। এ রোগে দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও ওজন হ্রাস পায়। দেহ হাড্ডিসার হয়, দেহের সঞ্চিত স্নেহ পদার্থ নিঃশেষ হয়ে যায় এবং মাংসপেশি শীর্ণ হয়। হাত-পা সরু ও পেট অপেক্ষাকৃত বড় দেখায়। এ রোগে আক্রান্ত শিশুর মধ্যে রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। শিশু ঘন ঘন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। চুলের রং বদলে যায় এবং চুল উঠে যেতে থাকে।
উপরের আলোচনা হতে বলা যায় যে, প্রোটিনের অভাবে উপরোক্ত সমস্যাগুলোই দেখা দেয়।