1 Answers
উদ্দীপকে মাছ বিক্রেতার কৃত শ্রেণিকরণের সীমাবদ্ধতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
এক. পরতম জাতির শ্রেণিকরণ করা যায় না। পরতম জাতি হচ্ছে সর্বোচ্চ জাতি, যাকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো তার চেয়ে ব্যাপক আর কোনো জাতি নেই বিধায় সর্বোচ্চ জাতি হিসেবে পরতম জাতির শ্রেণিকরণ করা সম্ভব হয় না।
দুই. প্রান্তস্থিত বস্তুর ক্ষেত্রে শ্রেণিকরণ প্রয়োগযোগ্য নয়। কারণ প্রান্তস্থিত বস্তুতে প্রধানত দুই বা ততোধিক শ্রেণির গুণ একই সাথে বিদ্যমান থাকে বিধায় এ জাতীয় বস্তুর ক্ষেত্রে শ্রেণিকরণের প্রক্রিয়াটি প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। যেমন: 'জেলি' জাতীয় দ্রব্য, যার মধ্যে একই সাথে তরল ও কঠিন এই উভয় শ্রেণির গুণই বিদ্যমান থাকে। এজন্য জেলিকে তরল ও কঠিন, এ দুটি শ্রেণির কোনোটিতেই অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয় না বলে একে শ্রেণিকরণ করা যায় না।
তিন, সংজ্ঞার অযোগ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে শ্রেণিকরণের প্রক্রিয়াই প্রযোজ্য হয় না। শ্রেণিকরণ সংশ্লিষ্ট বস্তু মৌলিক ও অপরিহার্য গুণের ভিত্তিতে করা হয় বলে যেসব বস্তুর সংজ্ঞা দেওয়া যায় না সেসব বস্তুর শ্রেণিকরণ করা সম্ভব হয় না।
চার, অনির্ধারণযোগ্য গুণসম্পন্ন বিষয় বা বস্তুর শ্রেণিকরণ করা যায় না। জগতে এমন অনেক বস্তু আছে, যেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান মৌলিক ও অপরিহার্য গুণ নির্ধারণ করা সম্ভম্ব হয় না। এ জাতীয় বস্তুর শ্রেণিকরণও করা যায় না।
পাঁচ, সীমিত জ্ঞানসম্পন্ন বস্তুকে শ্রেণিবিন্যাস করা যায় না। এমন কিছু জাগতিক বিষয় আছে, যেগুলো সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত বলে এগুলোর সাথে সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ অন্য কোনো বস্তু সম্পর্কে কোনোরূপ জ্ঞানই আমাদের নেই বলে এ জাতীয় বিষয়ের শ্রেণিকরণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।
ছয়. নিয়ত পরিবর্তনশীল বস্তুর শ্রেণিবিন্যাস করা যায় না। বস্তুত শ্রেণিকরণ করা হয় সংশ্লিষ্ট বস্তুর স্থায়ী গুণের ভিত্তিতে।
সাত. শ্রেণিকরণে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে তুলনার ভিত্তিতেই একটি বিষয়কে কোনো শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে।
কাজেই যেসব বস্তুকে অন্য কোনো বিষয়ের সাথে তুলনা করা যায় না, সেসববস্তুর শ্রেণিকরণও করা যায় না।