1 Answers
উদ্দীপকে মায়িশার খেলনাগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যুক্তিবিদ্যার শ্রেণিকরণের জ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
যুক্তিবিদ্যায় আলোচিত যুক্তিপদ্ধতির একটি সহায়ক প্রক্রিয়া হিসেবে শ্রেণিকরণ হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে জাগতিক জটিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বস্তুরাশি ও ঘটনাবলিকে নিয়মানুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে এগুলোর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা যায়। শ্রেণিকরণ হচ্ছে একটি মানসিক প্রক্রিয়া। কাজেই এককথায় বলা যায়, জাগতিক বস্তুরাশি বা ঘটনাবলিকে মানসিকভাবে সুবিন্যস্ত করার মাধ্যমে এগুলো সম্পর্কে সুশৃঙ্খল জ্ঞান লাভের প্রক্রিয়াই হচ্ছে শ্রেণিকরণ। সাধারণভাবে শ্রেণিকরণ একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত, যার মাধ্যমে জগতের অসংখ্য বিষয় সম্পর্কে সুনিয়ন্ত্রিত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। শ্রণিকরণ হচ্ছে এমন এক ধরনের মানসিক প্রক্রিয়া, যেখানে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জাগতিক বিষয়াবলিকে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে সেগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যার ফলে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিভুক্ত এসব বস্তু বা প্রাণীর স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য আমরা সহজেই নির্ণয় করতে পারি। বস্তুত শ্রেণিকরণের প্রক্রিয়াই প্রথমে বিশেষ বিশেষ বস্তু থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি তৈরি করে। অর্থাৎ প্রথমে সাদৃশ্যপূর্ণ কয়েকটি বস্তুকে নিয়ে একটি ক্ষুদ্র শ্রেণি তৈরি হয়। এই ক্ষুদ্র শ্রেণিটি আবার তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অন্য আরও কয়েকটি ক্ষুদ্র শ্রেণিকে নিয়ে একটি বৃহৎ শ্রেণি গঠন করে। আর এভাবেই শ্রেণিকরণের প্রক্রিয়াটি নিম্নস্তর শ্রেণি থেকে ক্রমান্বয়ে উচ্চতর শ্রেণির দিকে অগ্রসর হয়। সাধারণভাবে শ্রেণিকরণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে জাগতিক বিষয়বস্তুকে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে মানসিকভাবে একত্রিত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে শ্রেণিকরণ।