উদ্দীপকে আঁখির দাদার ব্যাখ্যাটি যে প্রকারের ব্যাখ্যা তার ধরনগুলো বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকে আঁখির দাদার ব্যাখ্যাটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ধরন দুটি বিশ্লেষণ করা হলো:
* বিশিষ্ট ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে কোনো বিশিষ্ট ঘটনার কারণ আবিষ্কার করা। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি যে কার্যকারণ নিয়মে সংঘটিত হয়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মূলত তা-ই ব্যক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে বিশিষ্ট ঘটনাটিকে প্রথমে এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অনুরূপ অন্যান্য ঘটনার সাথে সম্পর্কিত করা হয়। এরপর এই সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে আরোহ অনুমান প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, আলোচ্য বিশিষ্ট ঘটনাটি এবং এর সাথে সাদৃশ্যপূ ঐ ঘটনাগুলো মূলত একই কারণ থেকে অনুসৃত ভিন্ন ভিন্ন কার্য। যেমন: বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্কলিন, বজ্রপাতকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রথমে এর সাথে বৈদ্যুতিক ঘটনার সাদৃশ্য আবিষ্কার করেন। এরপর বজ্রপাতকে বৈদ্যুতিক ঘটনার সাথে সংযুক্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, বিদ্যুৎ ও বজ্রপাত উভয়ই একই ঘটনা থেকে নিঃসৃত; অর্থাৎ উভয়ই একই কারণের কার্য। আর এভাবেই তিনি বিশিষ্ট ঘটনা হিসেবে বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
* নিয়ম সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: কোনো বিশিষ্ট ঘটনাকে যে নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, সেই নিয়মটিকে আবার ব্যাপকতর কোনো প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করতে হয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বিশিষ্ট ঘটনাটি যে নিয়মে সংঘটিত হয়, সেই নিয়মের সাথে কোনো ব্যাপকতর নিয়মের সাদৃশ্য নির্ণয় করে উভয় নিয়মকে সংযুক্ত করা হয়। এরপর অবরোহ অনুমান প্রয়োগ করে দেখানো হয়, ব্যাপকতর নিয়মটি থেকে এর অধীনস্থ বিশিষ্ট ঘটনার নিয়মটি অনুসৃত হয়েছে। যেমন: ব্যাপকতর নিয়ম হিসেবে মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের সাথে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে জোয়ার-ভাটার নিয়মকে এর সাথে সংযুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। আর এভাবেই জোয়ার- ভাটার নিয়মটি মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম থেকে অনুসৃত হয়।