1 Answers

উদ্দীপকে শাহাবুদ্দিনের ব্যাখ্যা তথা লৌকিক ব্যাখ্যার বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো :

  •  লৌকিক ব্যাখ্যা অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও প্রচলিত ধারণার সাথে সম্পৃক্ত। উদাহরণস্বরূপ, শীতলা দেবীর কারণে বসন্ত রোগ হয় বা ওলাওঠা বিবির প্রভাবে কলেরা রোগ হয়। বস্তুত এ জাতীয় ধারণা আদিকাল থেকেই প্রচলিত, যার প্রতি অন্ধবিশ্বাস থেকে কুসংস্কারবশত মানুষ এ জাতীয় ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে।
  •  লৌকিক ব্যাখ্যায় অবাস্তব ও অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত বিষয় দ্বারা ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয়। যেমন: এরূপ ব্যাখ্যায় কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণের মূলে কোনো দুষ্টভূতের প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে বাস্তবে ভূত বলে কোনো বস্তু নেই। এটি মানুষের মনগড়া অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত বিষয়, যার কোনোরূপ বাস্তবতা নেই।
  • লৌকিক ব্যাখ্যায় গুরুত্বহীন, অপ্রাসঙ্গিক ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। যেমন: পানিতে বসবাস করে বলে এরূপ ব্যাখ্যায় তিমিকে মাছ বলা হয়।
  •  লৌকিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ঘটনাবলির মধ্যে কোনোরূপ কার্যকারণ নিয়ম বা প্রকৃতির নিয়ম অনুসরণ করা হয় না। যেমন : এরূপ ব্যাখ্যায় হাত থেকে কোনো বস্তুর পড়ে যাওয়াকে অশুভ মনে করা হয়। প্রকৃতপক্ষে বস্তুর পড়ে যাওয়া ও অশুভ হওয়া, এ বিষয়ের মধ্যে কোনো ধরনের কারণিক সম্পর্ক নেই এবং তা কোনো নিয়মেরও অধীন নয়।
  •  লৌকিক ব্যাখ্যায় প্রস্তাবিত যেকোনো ব্যাখ্যাকে চূড়ান্ত ও সম্পূর্ণরূপে সত্য মনে করে তাকে নির্বিচারে গ্রহণ করা হয় এবং একে সম্ভাব্য সব ধরনের উৎকর্ষ সাধন ও সংশোধনের বহির্ভূত হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমন: 'সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।' -টলেমির এ ব্যাখ্যাটিকে তৎকালীন সাধারণ মানুষ সন্দেহাতীত, পরম ও চূড়ান্ত সত্য বলে গ্রহণ করেছিল।
  •  লৌকিক ব্যাখ্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের ব্যাখ্যা, যা যেকোনো মানুষ যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রদান করতে পারে। বস্তুত এরূপ ব্যাখ্যা বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে হয় এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে অত্যধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়।
  •  সর্বোপরি লৌকিক ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনোরূপ নিয়ম পালনের প্রয়োজন হয় না বলে এরূপ ব্যাখ্যা আরোহ বা অবরোহ কোনো অনুমান প্রক্রিয়ার সাথেই যুক্ত নয়।
5 views

Related Questions