1 Answers
উদ্দীপকের আলোকে 'অন্বয়ী পদ্ধতি নিরীক্ষণের পদ্ধতি' নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
যুক্তিবিদ জে. এম. মিল যে পাঁচটি পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে প্রথমটি হলো অন্বয়ী পদ্ধতি। নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ হলো অন্বয়ী পদ্ধতির মূল লক্ষ্য। কতগুলো দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করাই হলো অন্বয়ী পদ্ধতির মূল কাজ।
অন্বয় শব্দের অর্থ মিল। এদিক দিয়ে অন্বয়ী পদ্ধতির অর্থ মিলের পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তে আলোচ্য ঘটনার সাথে অন্য একটি অবস্থার উপস্থিতির দিক দিয়ে মিল লক্ষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে আলোচ্য ঘটনার সাথে উক্ত অবস্থার কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক আছে। অন্বয়ী পদ্ধতিতে এমন দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তের প্রয়োজন হয়, যেগুলোতে শুধু একটিমাত্র অবস্থার দিক থেকে সাদৃশ্য দেখা যায়, যদিও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক অবস্থাগুলোর মধ্যে কোনো অন্বয় বা সাদৃশ্য থাকে না। অন্বয়ী পদ্ধতির প্রয়োগক্ষেত্র অত্যন্ত সহজতর। কারণ এ পদ্ধতি নিরীক্ষণ পদ্ধতি। সাধারণ লোকের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা খুবই সুবিধাজনক। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চন্দ্রগ্রহণ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ইত্যাদি প্রাকৃতিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যার জন্য কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করতে আমাদের ক্ষেত্রে নিরীক্ষণের সাহায্য গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
অন্বয়ী পদ্ধতি যে নিরীক্ষণ নির্ভর তা আমরা বাস্তবে বিভিন্ন উদাহরণের সাহায্যে দেখতে পাই- যেমন: শহরে কোনো এলাকায় হঠাৎ করে ম্যালেরিয়া জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পেশা, বয়স, খাদ্যাভ্যাস, তাদের অবস্থান, জীবনযাত্রার ধরন ইত্যাদি ভেদে বেশকিছু লোকের উপর পর্যবেক্ষণ করে কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হলো না।। সবশেষে ঐ এলাকার জলাবদ্ধতা ও নোংরা জায়গা পরীক্ষা করে দেখা গেল প্রত্যেক বাড়ির পাশে, কিংবা বাড়ির আঙিনায় কিছু পচা-গলা বা নোংরা জলাশয় রয়েছে। আর তাতে মশা ভনভন করছে। এ মশার মাঝে ম্যালেরিয়ার জীবাণু রয়েছে। সে ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো যে, মশার কামড়ই ম্যালেরিয়ার কারণ।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি অন্বয়ী পদ্ধতি নিরীক্ষণের পদ্ধতি। নিরীক্ষণ ছাড়া অন্বয়ী পদ্ধতি সম্ভব নয়।