1 Answers

উদ্দীপকের ঘটনা দুটিতে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের পদ্ধতি সহপরিবর্তন পদ্ধতিটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিচে এ পদ্ধতির সুবিধাসমূহ আলোচনা করা হলো-

১। সহপরিবর্তন পদ্ধতি থেকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়: সহপরিবর্তন পদ্ধতির দৃষ্টান্তগুলো যখন পরীক্ষণের সাহায্যে সংগ্রহ করা হয়, অর্থাৎ অপরাপর অবস্থাগুলো অপরিবর্তিত রেখে যখন একটি বিষয়ক কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ও কমিয়ে অপর একটি বিষয়ের উপর তার প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়, তখন এ পদ্ধতি থেকে নিশ্চিত ফল লাভ করা যায়।

২ । স্থায়ী কারণসমূহের উপর এ পদ্ধতির প্রয়োগ খুবই ফলপ্রসূ : প্রকৃতিতে এমন কতগুলো কারণ আছে, যাদেরকে বস্তু থেকে সম্পূর্ণ অপনয়ন করা যায় না; এগুলো হচ্ছে তাপ, চাপ, ওজন, আকর্ষণ, বিদ্যুৎ ইত্যাদি। এ কারণগুলোকে বস্তু থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করা যায় না বলে এদের ক্ষেত্রে ব্যতিরেকী পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। তবে বস্তুতে এ কারণগুলোর হ্রাস-বৃদ্ধি লক্ষ করা যায়। একটি বস্তুকে' ওজন বা তাপশূন্য করা যায় না; কিন্তু তাতে তাপ বা ওজন বাড়ানো ও কমানো যায়। অর্থাৎ এদের ক্ষেত্রে সহপরিবর্তন পদ্ধতিটি সাফল্যের সঙ্গে প্রয়োগ করা যায়।

৩। সহপরিবর্তন পদ্ধতির সাহায্যে কার্যকারণ সম্পর্কের পরিমাণগত দিক নির্ণয় করা যায়: কার্যকারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুণগত ও পরিমাণগত দুটি দিক লক্ষ করা যায়। অন্য পদ্ধতিগুলো এ সম্পর্কে গুণগত দিক ব্যাখ্যা করতে পারবে, পরিমাণগত দিক ব্যাখ্যা করতে পারে না। একমাত্র সহপরিবর্তন পদ্ধতি ঘটনাবলির মধ্যে হ্রাস-বৃদ্ধি সঠিকভাবে পরিমাপ করে কার্যকারণ সম্পর্কের পরিমাণগত দিকটি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।

৪। সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যতিরেকী পদ্ধতির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে : ব্যতিরেকী পদ্ধতি পরীক্ষণভিত্তিক বলে তার প্রয়োগ সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাছাড়া ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে সদর্থক ও নঞর্থক দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমরা একটি পূর্বগ ও একটি অনুগের মধ্যে একটি কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করি। এদের উপর সহ-পরিবর্তন পদ্ধতি প্রয়োগ করে এদের মধ্যে যদি পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটিয়ে সম্পর্কটিকে পরীক্ষা করা যায়, তাহলে আমরা আরও নিশ্চিত সত্যে পৌঁছতে পারি।

৫। সহপরিবর্তন পদ্ধতিতে দরকারমতো হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটিয়ে নেওয়া হয়: প্রকৃতিতে ঘটনাবলি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে; তবে এ পরিবর্তন সবসময় ধরা পড়ে না। তাই আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী বস্তু বা ঘটনার উপর পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করি। এ পদ্ধতির ক্ষেত্রে পরিমাণগত হ্রাস-বৃদ্ধি যদি সঠিকভাবে গণনা করা যায়, তাহলে এর সাহায্যে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত অপরাপর পদ্ধতির তুলনায় বেশি নিশ্চিত হয়।

4 views

Related Questions