1 Answers
উদ্দীপকে মাহিম তার মায়ের কথাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক মনে করে না। এ বিষয়ে আমিও মাহিমের সাথে 'একমতপোষণ করছি।
কারণ মাহিমের মা সাহিদা ইয়াসমিন কাচের গ্লাস ভেঙে যাওয়ার জন্য কাজের মেয়ে আঁখিকে দোষারোপ করেন। তার মতে, আঁখির হাত থেকে গ্লাসটি পড়ে যায় বলেই তা ভেঙে গিয়েছে; হাত থেকে না পড়লে গ্লাসটি ভাঙত না। অর্থাৎ তিনি কার্যকারণ নীতির লৌকিক মতবাদে বিশ্বাসী। কিন্তু মাহিম এ বিষয়ে ভিন্নমতপোষণ করে। সে মায়ের কথাটিকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না। কারণ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু হাত থেকে গ্লাসটি পড়ে যাওয়াই সমগ্র কারণ হতে পারে না; বরং কারণের ক্ষুদ্র একটা শর্ত হিসেবে গ্লাসটির পিচ্ছিলতা, মেয়েটির শারীরিক দুর্বলতা, মেয়েটির অসাবধানতা, কোনো কিছুর সাথে গ্লাসটির আঘাত লাগা, মেয়েটির চলার পথে কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা লাগা প্রভৃতি সদর্থক বা নঞর্থক কারণ দায়ী হতে পারে। অথচ এতগুলো শর্তকে বুঝতে না পেরে সাহিদা ইয়াসমিন শুধু একটি কারণকেই দায়ী করেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে লৌকিক মতবাদ কারণের 'অংশকে সমগ্র অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তাই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে কার্যকারণ সম্পর্কে লৌকিক মতবাদ কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ মতবাদে অনেক সময় সাধারণ মানুষ তাদের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের জন্য কোনো ঘটনার কারণ হিসেবে অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত বিষয়ে বিশ্বাস করে থাকে। আবার লৌকিক দৃষ্টিতে শর্তের সমষ্টি থেকে বিশেষ কোনো একটা শর্তকে বেছে নিয়ে তাকে ওই মুহূ র্তে একটা ঘটনার কারণ বলে মনে করা হয়। উদ্দীপকে সাহিদা ইয়াসমিন কাচের গ্লাস ভাঙার জন্য কেবল হাত থেকে পড়ে যাওয়াকেই সমগ্র কারণ হিসেবে বিবেচনা করে তার কথায় লৌকিক মতবাদের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
উপরোক্ত কারণেই মাহিম তার মায়ের কথাকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। তাই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমিও মাহিমের সাথে একমতপোষণ করছি।