1 Answers
অনার্থিক প্রেষণার ফলে জনাব কফিল প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যান নি।
অর্থ বা আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বাইরে প্রেষণাদানের যে সকল উপায় রয়েছে তার মাধ্যমে প্রেষণাদানকেই অনার্থিক প্রেষণা বলে। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক-কর্মীদের নিকট থেকে কাজ আদায়ে আর্থিক প্রেষণার পাশাপাশি অনার্থিক প্রেষণা প্রদান করাও জরুরি। অনার্থিক প্রেষণার প্রধানতম পদ্ধতি হলো সুষ্ঠু কার্য পরিবেশ। পর্যাপ্ত জায়গা, আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সাজানো-গুছানো পরিবেশ, উপযুক্ত নিয়ম-রীতি, উত্তম শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক সবমিলিয়েই প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে। কর্মী যেখানে কাজ করে সেই স্থানের পরিবেশ উন্নত হলে তা কর্মীদের মনোবল উন্নত করে। তখন কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে।
উদ্দীপকে কফিল এমবিএ পাসের পর 'সাহানা' গার্মেন্টসের সহকারী উৎপাদন ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন। একটি বড় কক্ষে তিনি অন্যান্য বিভাগের পাঁচজন ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপকের সাথে একসঙ্গে বসে অফিসকার্য সম্পাদন করেন। গত পাঁচ বছরে একই পদে তার বেতন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু একই বেতনে তিনি সালেহা গার্মেন্টসে চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে কর্তৃপক্ষ বেতন না বাড়িয়ে তাকে 'ব্যবস্থাপক' পদে পদোন্নতি দেন এবং তার জন্য একটি সুসজ্জিত কক্ষ বরাদ্দ করেন। জনাব কফিল এতে অত্যন্ত খুশি হন এবং পূর্বের চেয়ে আরও অধিক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে থাকেন।
সুতরাং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট থেকে অধিক উদ্দীপনার সাথে কাজ আদায় করে নিতে হলে আর্থিক প্রেষণার পাশাপাশি অনার্থিক প্রেষণা প্রদান করাও জরুরি। উদ্দীপকে অনার্থিক প্রেষণা প্রদানের ফলে জনাব কফিল প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাননি; বরং পূর্বের চেয়ে আরও অধিক উদ্দীপনা দিয়ে কাজ করতে থাকেন।