1 Answers
"স্বাভাবিক সংকেতগুলো দ্বারা নির্দেশিত বিষয়ের সাথে আমাদের স্বাভাবিক ও অনিবার্য সম্পর্ক প্রতীয়মান"- উক্ত বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি। কোনো বিষয় যখন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্যকোনো বিষয়ের নির্দেশ বা আভাস দিতে পারে তখনই সংকেত বলে। সংকেত দুই প্রকার। কৃত্রিম এবং স্বাভাবিক সংকেত। স্বাভাবিক সংকেত বলতে বোঝায় যে সংকেত প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে। তাই স্বাভাবিক সংকেতগুলো দ্বারা নির্দেশিত বিষয়ের সাথে তাদের স্বাভাবিক ও অনিবার্য সম্পর্ক রয়েছে। যেমন- ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে স্বাভাবিক ও অনিবার্য সম্পর্ক রয়েছে। আকার-ইঙ্গিতময় বা ভাবভঙ্গির ভাষা (gesture language) হচ্ছে স্বাভাবিক সংকেত। যেমন- কোনো তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি তার বিশেষ ভঙ্গির সাহায্যে বোঝাতে পারে যে, সে তৃষ্ণার্ত। আবার কোনো ব্যক্তির অঙ্গুলির নির্দেশ বা চোখ-ইশারা সরাসরি কোনো কিছুকে নির্দেশ করতে পারে। এ ধরনের সংকেতগুলোকে স্বাভাবিক সংকেত বলা যায়। আকার-ইঙ্গিতময় ভাষার স্বাভাবিক সংকেতগুলো ত্রুটিমুক্ত নয়। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনি ব্যবহার কিংবা বিভিন্ন ক্রিয়ার অনুকরণ বা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির সংখ্যা নিতান্ত সীমিত। স্বাভাবিক সংকেতের সংখ্যা প্রকাশযোগ্য বিষয়ের সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া বিমূর্ত ধারণাগুলোকে ইন্দ্রিয়ের কাছে উপস্থাপিত করা যায় না। কাজেই আকার-ইঙ্গিতময় ভাষায় স্বাভাবিক সংকেতের মাধ্যমে বিমূর্ত ধারণাগুলোকে প্রকাশ করা যায় না।