1 Answers

উদ্দেশ্য এবং বিধেয়ের মধ্যে যে সম্পর্ক তাই হলো বিধেয়ক। অ্যারিস্টটলের চার প্রকার বিধেয়কের পরিবর্তে পরফিরি পাঁচ প্রকার বিধেয়কের কথা বলেছেন। ১. জাতি, ২. উপজাতি, ৩. লক্ষণ, ৪. উপলক্ষণ, ৫. অবান্তর লক্ষণ।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, সৃষ্টির সেরা জীব হলো মানুষ। অর্থাৎ মানুষ জীব এর অন্তর্গত। তাই জীব ও মানুষের ক্ষেত্রে জাতি ও উপজাতি শ্রেণিতে ভাগ করতে পারি। সমস্ত জীব যেমন বৃহত্তর ধারণা তেমনি জীব এর তুলনায় মানুষ হলো ক্ষুদ্রতর ধারণা। জীবন হলো জাতি এবং মানুষ এর উপজাতি। জীব জাতি মানুষকে নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রাখে উপজাতি হিসাবে এবং উপজাতি মানুষ জীব জাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আবার মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন হওয়ায় তার সমজাতীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে আলাদা। মানুষের দুটি গুণ আছে। জীববৃত্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তি। এই বৃদ্ধিবৃত্তি গুণের কারণে অন্য সবকিছুর উপর আধিপত্য কায়েম করেছে। সুতরাং বুদ্ধিবৃত্তি গুণের কারণে অন্য প্রাণীদের থেকে আলাদা। যে গুণের কারণে একই জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতিকে তার সমজাতীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করা হয় সেটিই লক্ষণ বা বিভেদক। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি গুণের কারণে এর সহযোগী উপজাতি, গরু, ছাগল, হাতি, ঘোড়া থেকে পৃথক হয়েছে। তাই এই বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি হলো বিভেদক লক্ষণ।

মানুষের রয়েছে নিজস্ব চিন্তাশক্তি বিচারশক্তি। আর এই চিন্তা ও বিচারশক্তি দিয়েই সে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ দিচ্ছে। চিন্তাশক্তি ও বিচারশক্তি গুণটি জাত্যর্থ-এর অংশ নয় কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। যেমন সকল মানুষ হয় চিন্তাশক্তি ও বিচারশক্তিসম্পন্ন প্রাণী। এই চিন্তাশক্তি ও বিচারশক্তি হলো মানুষ পদের উপলক্ষণ। যে গুণগুলো জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না তাই মূলত অবান্তর লক্ষণ। অতএব উদ্দীপকের আলোকে আমরা বলতে পারি যে, বিধেয়ক পাঁচ প্রকার।

4 views

Related Questions