1 Answers

গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বিধেয়কের চার ধরনের শ্রেণিবিভাগ করেছেন। যথা: সংজ্ঞা, জাতি, উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণ। খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতকে মধ্যযুগীয় যুক্তিবিদ পরফিরি বিধেয়কের পাঁচ ধরনের শ্রেণিবিভাগ করেছেন। যথা- জাতি, উপজাতি, বিভেদক লক্ষণ, উপলক্ষণ, অবান্তর লক্ষণ। বিভিন্ন বাক্যে বিধেয়ের সংখ্যা অসংখ্য হলেও উদ্দেশ্যের সাথে সম্বন্ধের দিক থেকে বিধেয়গুলোকে মাত্র কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় এবং বিধেয় মাত্রই শ্রেণিগুলোর কোনো না কোনোটির অন্তর্ভুক্ত। আর এই শ্রেণিগুলোই হলো বিধেয়ক। যেমন- মানুষ হয় প্রাণী। এই বাক্যে মানুষকে উপজাতি এবং প্রাণীকে জাতি বলে শনাক্ত করা হয়। আবার যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ গুণ বা গুণসমূহ 'একই জাতির অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতির একটিকে অপরটি থেকে পৃথক করে, সে গুণ বা গুণাবলিকে উক্ত জাতিগুলোর বিভেদক লক্ষণ বলে। যেমন মানুষের বিভেদক লক্ষণ হলো বুদ্ধিবৃত্তি। আবার যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থ নয় কিন্তু জাত্যর্থ থেকে আবশ্যিকভাবে নিঃসৃত হয়, সে বিশেষ গুণ বা গুণাবলিকে উক্ত পদের উপলক্ষণ বলা হয়। যেমন- 'মানুষের বিচার ক্ষমতা আছে' এই বাক্যে 'বিচারক্ষমতা' গুণটি মানুষের একটি উপলক্ষণ। অন্যদিকে যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃত বা অনুমিত হয় না, সে গুণ বা গুণাবলিকে অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন 'গান গাইতে পারা' মানুষের একটি অবান্তর লক্ষণ। এভাবে বিধেয়কের শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে আমাদের পক্ষে কোনো পদের পরিপূর্ণ এবং সুনির্দিষ্ট অর্থ সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব। তাই বিধেয়কের প্রকারভেদের যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে।

5 views

Related Questions