1 Answers

যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে 'পদ' বলে। উদ্দীপকে শিক্ষক দাবি করেন যে, যুক্তিবাক্যের তিনটি অংশের মাধ্যমে পদের অর্থ স্পষ্ট হয়। মূলত একটি যুক্তিবাক্যের তিনটি অংশ থাকে এবং তা ক্রমানুযায়ী বিন্যাসিত থাকে। যেমন- 'উদ্দেশ্য পদ', 'সংযোজক', 'বিধেয় পদ'। যেমন- 'মানুষ হয় মরণশীল'- এটি একটি যুক্তিবাক্য। এই যুক্তিবাক্যের 'মানুষ' পদটি উদ্দেশ্য পদ, 'হয়' সংযোজক এবং 'মরণশীল' পদটি বিধেয় পদ। কোনো বাক্যে উল্লিখিত তিনটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল তাকে যুক্তিবাক্য বলা যাবে। এর কোনো একটির অভাব হলে ব্যাকরণিকভাবে বাক্য হতে পারে, কিন্তু তা যুক্তিবাক্য নয়। যেমন- 'মানুষ মরণশীল'- এটি একটি 'ব্যাকরণিক বাক্য। কারণ এতে কেবল উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ রয়েছে, সংযোজক নেই। কাজেই 'মানুষ মরণশীল' এটি কোনো যুক্তিবাক্য নয়। আধুনিক যুক্তিবিদ যোসেফ বলেন, "আমরা যেসব শব্দ বা শব্দসমষ্টিকে পদ বলে আখ্যায়িত করতে পারি সেগুলো নিজে নিজেই কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হতে সমর্থ হয়।" যেমন- 'বাঘ হয় হিংস্র প্রাণী'- এ যুক্তিবাক্যে 'বাঘ' ও 'হিংস্র প্রাণী' শব্দ সমষ্টি যুক্তিবাক্যের অন্য কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজেই উদ্দেশ্য ও বিধেয়রপে ব্যবহৃত হয়েছে। 'হয়' শব্দটি একটি সম্বন্ধ সৃষ্টিকারী চিহ্ন হিসেবে 'সংযোজক' বলে বিবেচিত। তাই বলা যায়, একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং সংযোগের মাধ্যমে যুক্তিবাক্যের অর্থ স্পষ্ট হয়।

4 views

Related Questions