1 Answers
উদ্দীপকে আমরা যুক্তিবাক্যের তিনটি অংশ দেখতে পাই। কিন্তু বাক্যের দুটি অংশ বিদ্যমান। অতএব বাক্য ও যুক্তিবাক্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যে শব্দ বা শব্দসমূহের মাধ্যমে মনের ভাব সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা যায় তা হলো বাক্য। যেমন- মামুন শিক্ষিত। অন্যদিকে দুটি পদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের বর্ণনা হলো যুক্তিবাক্য। যেমন- 'মামুন হয় শিক্ষিত'। ব্যাকরণিক বাক্যের দুটি অংশ থাকে। যথা: উদ্দেশ্য ও বিধেয়। অপরদিকে যুক্তিবাক্যের তিনটি অংশ থাকে। যথা: উদ্দেশ্য, সংযোজক ও বিধেয়। বাক্যে সংযোজক থাকে না, কিন্তু যুক্তিবাক্যে সংযোজক বিদ্যমান। বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়, কিন্তু যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। বাক্যের গুণ ও পরিমাণ সব সময় সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয় না, কিন্তু যুক্তিবাক্যে গুণ ও পরিমাণ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। বাক্যের শ্রেণিবিভাগ রয়েছে গঠন অনুসারে- সরল বাক্য, যৌগিক বাক্য ও জটিল বাক্য। কিন্তু যুক্তিবাক্যে রয়েছে সার্বিক বাক্য, বিশেষ বাক্য, নিরপেক্ষ বাক্য, সাপেক্ষ বাক্য ইত্যাদি। বাক্যের মাধ্যমে আবেগ ইচ্ছা, চিন্তা, অনুভূতি প্রকাশ হয়, কিন্তু যুক্তিবাক্যের মাধ্যমে শুধু মনের চিন্তা ব্যক্ত হয়। বাক্যকে সত্য বা মিথ্যা বলার কোনো গুণ থাকে না, কিন্তু যুক্তিবাক্যকে সত্য বা মিথ্যা বলার গুণ থাকে। বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের অবস্থানে ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। অপরদিকে যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য প্রথমে, বিধেয় শেষে এবং মধ্যে একটি সংযোজক বসে।
সুতরাং, আমরা বলতে পারি যে, বাক্য এবং যুক্তিবাক্যের মধ্যে পার্থক্য বা তফাত রয়েছে।