উদ্দীপকে উল্লিখিত মিনহার অভিজ্ঞতার আলোকে অবধারণ ও যুক্তিবাক্যের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
অবধারণ হলো এমন একটি মানসিক প্রক্রিয়া যাকে চেতনার প্রাথমিক স্তর বলা হয়। অবধারণের সাহায্যে আমরা দুটি, সার্বিক ধারণাকে মনে মনে তুলনা করে তাদের মধ্যে একটি সম্বন্ধ স্থাপন করি। যখন আমরা বলি 'কাক' হয় কালো, তখন 'কাক' ও 'কালো' এ দুটি সার্বিক ধারণাকে মনে মনে তুলনা করে 'কালো' গুণটি কাকের সম্পর্কে স্বীকার করি।
অন্যদিকে, দুটি পদের সম্পর্ক ভাষায় প্রকাশ করলে তার নাম হয় যুক্তিবাক্য। দুটি পদের এই ভাষাগত সম্পর্ক স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিমূলক হতে পারে। সুতরাং বলা যায় যে, অবধারণ হলো একটি চিন্তন বা মানসিক প্রক্রিয়ার বিষয়, আর যুক্তিবাক্য হলো ভাষাগত প্রক্রিয়ার বিষয়। অবধারণ মূলত মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। কারণ মানসিক প্রক্রিয়ার সকল দিক মনোবিজ্ঞানে আলোচিত হয়। আর যুক্তিবাক্য যুক্তিবিদ্যার বিষয়বস্তু। অবধারণে কোনো বাঁধাধরা বা ছক বাঁধা নিয়ম নেই। কিন্তু যুক্তিবাক্যকে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। যুক্তিবাক্যের একটি উদ্দেশ্য, সংযোজক ও বিধেয় থাকতে হবে। অবধারণের মৌল ভিত্তি 'ধারণা' বা 'প্রত্যয়'। আর যুক্তিবাক্য হলো 'পদ'। অবধারণের পরিসর তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত, কিন্তু যুক্তিবাক্যের পরিসর সেদিক থেকে সীমিত।
অবধারণ ও যুক্তিবাক্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেলেও কোনো কোনো যুক্তিবিদ অবধারণ ও যুক্তিবাক্যকে সমার্থক মনে করেন। যুক্তিবিদ ল্যাটা ও ম্যাকবেথ বলেন, "যেহেতু প্রতিটি যুক্তিবাক্যই কোনো একটি অবধারণের ভাষাগত প্রকাশ, সেহেতু মাঝে মাঝে একটি যুক্তিবাক্যকে একটি অবধারণ বলা সুবিধাজনক।"
সার্বিক বিশ্লেষণ শেষে আমরা বলতে পারি যে, যুক্তিচিন্তনের ক্ষেত্রে এবং চিন্তন ক্রিয়া বিকাশের ক্ষেত্রে 'অবধারণ' ও 'যুক্তিবাক্য' উভয়েরই প্রয়োজন রয়েছে।