1 Answers

উদ্দীপকে বাঁধন পদ সম্পর্কে বলেছে, পদ হচ্ছে যুক্তিবাক্যের অংশ যা শব্দের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু শব্দ ও পদ এক নয়। কেননা, যে কোনো অর্থবোধক ধ্বনি বা অক্ষর সমষ্টিকে বলা হয় শব্দ। অন্যদিকে, যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহারযোগ্য শব্দগুলোকেই শুধু পদ বলে। পদ মাত্রই তা শব্দ হতে বাধ্য কিন্তু শব্দমাত্রই তা পদ-একথা বলা যায় না। কাজেই পদের পরিধি শব্দ আপেক্ষা সংকীর্ণ এবং শব্দের পরিধি পদ অপেক্ষা বিস্তৃত। শব্দ যত বড়ই হোক না কেন তা সর্বদাই একটি মাত্র শব্দ। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও বিধেয় হিসাবে পদ হলো কয়েকটি শব্দের সমষ্টি। যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসাবে ব্যবহৃত শব্দ মাত্রই তা পদ। আর সে কারণেই যুক্তিবাক্যে সর্বদা দুটি পদ থাকে, যথা : উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদ। কিন্তু যুক্তিবাক্যে দুয়ের অধিক অনেক শব্দ থাকতে পারে। শব্দের একাধিক অর্থ থাকতে পারে এবং প্রায়শই তা থাকে। কিন্তু পদের অর্থ সকল ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এবং তার একাধিক অর্থ থাকা সম্ভব নয়। মনের যেকোনো ধরনের ভাবের প্রকাশ ঘটে শব্দের মাধ্যমে। কিন্তু পদের একমাত্র কাজ হলো সবিচার চিন্তার প্রকাশ ঘটানো। পদ মাত্রই যুক্তিবাক্যের দুই প্রান্তে অবস্থান করে। কিন্তু শব্দ বাক্যের সমগ্র স্থান জুড়ে ছড়িয়ে থাকে। পদের মাঝে ব্যক্ত্যর্থ বা জাত্যর্থ এ দুটি তাৎপর্য খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু শব্দের নিজস্ব অর্থ ছাড়া অন্য কোনো তাৎপর্য নেই। পরিশেষে আমরা পদ ও শব্দ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত আসতে পারি যে, সকল পদই শব্দ কিন্তু সকল শব্দ পদ নয়। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, শব্দের ক্ষেত্র পদ অপেক্ষা ব্যপকতর।

4 views

Related Questions