1 Answers
উদ্দীপকে অম্লান দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখে চিন্তিত হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে দেশের মানুষের মাঝে যুক্তি ও নৈতিকতার পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য নির্ধারণ করাই নীতিবিজ্ঞানের মূল আদর্শ। কিন্তু মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়- অন্যায় ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কিত নৈতিক আদর্শগুলো বিজ্ঞানসম্মত সুসংগত রূপ পেতে হলে সেগুলোর অবশ্যই একটা যৌক্তিক ভিত্তি থাকতে হবে। অর্থাৎ এসব নৈতিক নিয়ম যুক্তিবিদ্যা নির্দেশিত নির্ভুল চিন্তার পথ অনুসরণ করে চললে সেগুলো যথাযথ হয় এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে। তাই নীতিবিদ্যার সূত্রগুলো সঠিক হবার জন্য যুক্তিবিদ্যার নিয়ম মেনে চলতে হয়। আর এজন্যই নীতিবিদ্যাকে যুক্তিবিদ্যার উপর নির্ভর করতে হয়। পক্ষান্তরে যুক্তিবিদ্যা কিছুটা হলেও নীতিবিদ্যার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ নৈতিক আদর্শগুলো সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান পেতে হলে নীতিবিদ্যাই সেগুলো সরবরাহ করে। অন্যথায় যুক্তিবিদ্যার পক্ষে নৈতিক জ্ঞানের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করা সম্ভব হতো না। তা ছাড়া যুক্তিবিদ্যার ঔচিত্যের বিষয়টি অনেকখানি নীতিবিদ্যার ঔচিত্যের ধারণার উপর নির্ভর করে। কাজেই এদিক থেকে যুক্তিবিদ্যাকে নীতিবিদ্যার মুখাপেক্ষী হতে হয়। সুতরাং বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। পরিশেষে বলা যায় মানুষের জীবনের তিনটি মৌলিক আদর্শ হলো সত্য, সুন্দর ও মঙ্গল। এগুলো চরম আদর্শের অংশ হিসাবে একসূত্রে গাঁথা। এদের মধ্যে যুক্তিবিদ্যা সত্যকে নিয়ে এবং নীতিবিদ্যা মঙ্গলকে নিয়ে আলোচনা করে। এজন্যই উদ্দীপক অনুসারে দেশের বিশৃঙ্খলা দূর করে সবার মাঝে নৈতিকতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুক্তিবিদ্যা ও নৈতিকতার প্রয়োজন রয়েছে।