1 Answers
উদ্দীপকের জাতীয় সংসদ ভবন হলো নন্দনতত্ত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নন্দনতত্ত্ব হলো এমন বিষয় যার মধ্যে রয়েছে নান্দনিক ও আকর্ষণীয় দিক। এই নান্দনিক ও আকর্ষণীয় বিষয়কে বলা হয় 'কলা'। 'কলা' মানুষের মনকে আকর্ষণ করে। মানুষের অনুভূতিকে জাগ্রত করে ও উদ্দীপ্ত করে। উদ্দীপকে মৃদুল যেভাবে সংসদ ভবন দেখে উদ্দীপ্ত হয়েছে। এজন্য সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ কলাকে ভালোবাসে। যে বস্তুর মধ্যে নান্দনিক দিক বা আর্ট রয়েছে সেটি অন্যগুলো থেকে আলাদা, পৃথক ও স্বতন্ত্র। নিজ গুণেই বস্তুটি আলাদা ও স্বতন্ত্র। এই নিজস্বতা ও স্বকীয়তার কারণেই নন্দনতত্ত্বের সৃষ্টি হয়েছে সেই আদি প্রাচীন যুগে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের হাতে। এরিস্টটল নন্দনতত্ত্ব সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করতেন। কিন্তু প্লেটো শিল্পকলা ও নন্দনতত্ত্বের বিষয়কে জ্ঞানের নিকৃষ্টতম অংশ বলে মনে করতেন। নন্দনতত্ত্বের মৌলিক বিষয় হলো শিল্পকলা। এরিস্টটলের মতে, 'কলার মাধ্যমেই মানুষ বস্তুর সার্বিক সারধর্মের সাথে পরিচিত হয়।' এরিস্টটল তাঁর 'পোয়েটিক্স' গ্রন্থে 'কলা' বা নন্দনতত্ত্বের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর মতে, কলামাত্রই প্রকৃতির অনুকরণ। মানুষ স্বভাবতই অনুকরণশীল। আর অনুকরণ থেকে সে শুধু ইন্দ্রিয় সুখই নয়, বৌদ্ধিক আনন্দও পেয়ে থাকে। এদিক থেকে কাব্য শিল্পকলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়। কাব্য প্রধানত কল্পনাধর্মী। অনুকরণ প্রবণতা থেকেই কাব্যের উৎপত্তি ও বিকাশ।