1 Answers
উদ্দীপকে সুমনের পঠিত দুটি বিষয় হলো যুক্তিবিদ্যা ও দর্শন। যুক্তিবিদ্যা হলো অনুমানের মাধ্যমে সাধারণের যৌক্তিক ব্যাখ্যা। অন্যদিকে দর্শন হলো জগৎ এবং জীবনের যৌক্তিক ধারণার অনুসন্ধান। যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনের সংজ্ঞার মধ্যে কিছু কিছু বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। প্রথমত, দার্শনিক কেয়ার্ড তাঁর গ্রন্থে বলেন, "এই বিশ্বজগতে এবং এই বিশ্বজগতের বাইরে এমন কিছু নেই যা দর্শনের আলোচনা বহির্ভূত।" অর্থাৎ দর্শনের পরিধি ব্যাপকতর। দর্শনের আলোচ্য বিষয়বস্তুকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা- অধিবিদ্যা, জ্ঞানবিদ্যা, মূল্যবিদ্যা। আর যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে মূল্যবিদ্যার একটি অংশমাত্র। সত্য, সুন্দর ও মঙ্গল মূল্যবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয়। মূল্যবিদ্যার যে শাখায় সত্যাসত্য নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে যুক্তিবিদ্যা বলে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যা দর্শনের একটি অংশমাত্র। দ্বিতীয়ত, যথার্থ জ্ঞানের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার সময় যুক্তিবিদ্যা কখনোই অভিজ্ঞতার জগতের সীমা ছেড়ে যায় না। কিন্তু দর্শনের একটি প্রধান অংশ হচ্ছে অধিবিদ্যা। দর্শনের যে শাখা প্রাকৃতিক বিষয়ের অন্তরালে অবস্থিত অতিপ্রাকৃতিক বিষয়-বস্তুর অন্তর্নিহিত প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করে তাকে অধিবিদ্যা বলে। তৃতীয়ত, দর্শন চর্চার শুরুতে যুক্তিবিদ্যাকে দর্শনের অন্যতম শাখা হিসেবে গণ্য করা হলেও আজ দর্শন থেকে যুক্তিবিদ্যা একটি পৃথক বিষয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।