1 Answers
বাস্তব জীবনে যুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন প্রায়োগিক দিক থাকলেও যুক্তিবিদ্যা পাঠের প্রয়োজনীয়তা বিভিন্নভাবে বিতর্কিত হয়েছে। প্রথমত, যুক্তিবিদ্যা পাঠ না করেও মানুষ সবসময় বৈধ যুক্তি দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, যুক্তিবিদ্যার পাঠ বৈধযুক্তি বা উত্তম যুক্তি গঠনের নিশ্চয়তা বিধান করে না। তৃতীয়ত, যুক্তিবিদ্যার কোনো বাস্তব প্রয়োগ নেই। প্রথম অভিযোগের উত্তরে বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা মানুষকে যুক্তি সৃজন করতে শেখায় না। প্রকৃতপক্ষে যুক্তিবিদ্যার কাজ হলো বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তি পৃথক করা। যুক্তিবিদ কার্ডেখ রীড বলেন, "We learn to reason as we learn to walk and talk by the natural growth of our power." অর্থাৎ কথা বলা বা হাঁটতে পারার মতোই যুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা মানুষের জন্মগত। যুক্তিবিদ্যার জ্ঞান জন্মগত জ্ঞানকে শক্তিশালী করে। দ্বিতীয় সমালোচনার প্রত্যুত্তরে বলা যায় যে, মানুষ মাত্রই জন্মগতভাবে যুক্তি দেওয়ার ক্ষমতার অধিকারী। ফলে যুক্তিবিদ্যা পাঠ না করেও ভালো যুক্তি দিতে সক্ষম। তবে যুক্তি প্রয়োগ প্রক্রিয়াটি কীভাবে ঘটে তা সে জানে না। সে কারণে ভুল হলে তা ধরতে পারবে না। যুক্তিবিদ্যার জ্ঞান অশুদ্ধ যুক্তি নির্ণয় করতে সাহায্য করে এবং শুদ্ধ যুক্তি উপস্থাপনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তৃতীয় আপত্তি খণ্ডন করে বলা যায় যে, যুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ মানুষের জীবনের ও জ্ঞানের সর্বব্যাপী বিষয়। কেননা যুক্তিবিদ্যা চিন্তাসংক্রান্ত বিষয়। জ্ঞানের প্রত্যেকটি বিষয়েই যুক্তিবিদ্যার অবাধ বিচরণ লক্ষ করা যায়। কবি, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, গণিতবিদ, নক্ষত্রতত্ত্ববিদ, নীতিবিদ সবাইকে চিন্তা করতে হয়। ফলে সকল ক্ষেত্রে যুক্তির প্রয়োগ করতে হয়।
এ বিষয়গুলো ছাড়াও যুক্তিবিদ্যা পাঠের মাধ্যমে বিমূর্ত চিন্তার বিকাশ ঘটে। জ্ঞানের যথার্থতা বা বৈধতা বিচার করত সক্ষম হই। সেজন্য 'যুক্তিবিদ্যা পাঠের প্রয়োজনীয়তা বিতর্কিত' উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত।