1 Answers
যুক্তিবিদ যোসেফ দাবি করেন যুক্তিবিদ্যা আকারগত ও বস্তুগত উভয়ই। উদ্দীপকে আমরা বিজ্ঞানের দুটি শ্রেণির পরিচয় পেয়ে থাকি। যথা- আকারগত এবং বস্তুগত। সমকালীন যুক্তিবিদেরা যুক্তিবিদ্যাকে আকারগত বিজ্ঞান বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু যোসেফ এ মতের বিরোধিতা করে বলেন যুক্তিবিদ্যা আকারগত ও বস্তুগত উভয়ই। যোসেফের মতে, যাঁরা যুক্তিবিদ্যাকে একটি পূর্ণাঙ্গ আকারগত বিজ্ঞানের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে চান, তাঁরা 'আকার' কথাটিকে সঠিক অর্থে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর মতে, বস্তুগত অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে যা সাধারণ তা-ই হলো ঐ বিষয়গুলোর আকার। এ অর্থে শুধু যুক্তিবিদ্যাই নয়, প্রত্যেকটি বিজ্ঞানকেই আকারগত বলা যায়। যুক্তিবিদ্যা চিন্তার আকার নিয়ে আলোচনা করে ঠিকই, কিন্তু চিন্তার উপাদানকে বাদ দিয়ে নয়। কারণ চিন্তার মধ্যেই আকার ও উপাদান উভয়কেই পাওয়া যায়, যেমনটি পাওয়া যায় একটি মুদ্রার মধ্যে। যোসেফ একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টিকে পরিষ্কার করেছেন। যেমন- 'ক্ষুধা' ও 'তৃষ্ণা' দুটি মানুষের সহজাতবৃত্তি। বস্তুগতভাবে ভিন্ন হলেও আকারগত দিক থেকে এরা এক ও অভিন্ন। বস্তুগতভাবে ভিন্ন এই কারণে যে, এদের একটি খাদ্যের আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যটি পিপাসার আকাঙ্ক্ষা নির্দেশ করে। আকারগত দিক থেকে 'খাদ্য' ও 'পিপাসার' পার্থক্য এদের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে না। কারণ খাদ্যের আকাঙ্ক্ষা হিসাবে পিপাসার মধ্যেও একই বিশিষ্টতা লক্ষণীয়। সুতরাং, যুক্তিবিদ্যা আকারগত ও বস্তুগত উভয়ই।