1 Answers
আমগুলোকে পচন থেকে রক্ষা করতে এবং সারা বছর খাওয়ার উপযোগী রাখতে আচার বানানোর যে পরিকল্পনা জারিফের মা করেছেন তা অবশ্যই বাস্তবসম্মত। আম পাকার আগেই ঝরে পড়ায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে হওয়ায় এগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি ছিল।
ফল সংগ্রহের উপযুক্ত সময় আছে। এর আগে বা পরে ফল সংগ্রহ করলে তা খাবারের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ফল স্বাভাবিক পরিবেশে রেখে দিলে তাতে বিভিন্ন ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়। এসব জীবাণু ফলে উপস্থিত বিভিন্ন ভিটামিনকে কাজে লাগিয়ে এনজাইমের সহায়তায় ফল পচাতে কাজ করে। এতে অল্প সময়ে অনেক ফল খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়। এই কারণে ফল সংরক্ষণ করা জরুরি। আচারে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে তেল ব্যবহার করা হয়, যা জীবাণুর সংক্রমণে বাধা দেয়। মাঝে মাঝে রোদে রেখে দিলে অনেক দিন তা খাওয়ার উপযোগী থাকে। এতে ফলের পুষ্টিগুণও অক্ষুণ্ণ থাকে। মানবদেহের জন্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণের অন্যতম বড় উৎস হলো বিভিন্ন প্রকার ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৫৬ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। আর এই ফল সারা বছর পেতে সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। আবার, প্রধান খাদ্য ভাত বা অন্যান্য অনেক খাদ্যের উপর চাপ কমাতে পারে বিভিন্ন ফলের তৈরি আচার। প্রচলিত আছে যে, আচার খাবার গ্রহণের রুচি বাড়ায়। জারিফের মা আমের যে আচার তৈরি করেছেন তার চাহিদা দেশে ও বিদেশে প্রচুর। তাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে যদি ফলের আচার বানিয়ে বাজারজাত ও রপ্তানি করা যায়, তবে আর্থিকভাবে লাভবান হবারও সুযোগ থাকে।
আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, জারিফদের বাগানের আমগুলো সংরক্ষণে তার মায়ের নেওয়া পদক্ষেপ যথার্থ ও বাস্তবসম্মত ছিল।