1 Answers

উদ্দীপকে 'প্রাণ কোম্পানি' পেয়ারা প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্যোপযোগী করার ব্যবস্থা করে। সারা বছর খাদ্যের চাহিদা পূরণে বিভিন্ন ফলের গুণগত মানের পরিবর্তন না ঘটিয়ে আকৃতি ও প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে ভৌত ও রাসায়নিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ করাই হলো ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ।

প্রতিটি ফলই পুষ্টিতে ভরপুর। ফলে আমিষ ও শর্করা ছাড়া প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ রয়েছে। শরীর ভালো রাখার জন্য একজন লোকের প্রতিদিন ৫৬ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। কিন্তু আমরা মাত্র ২০-২৫ গ্রাম ফল খেয়ে থাকি। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের ফলের মোট উৎপাদনের শতকরা ২৫-৩০ ভাগ অপচয় কিংবা বিনষ্ট হয়। কিন্তু এসব ফল দিয়ে আমরা আচার, জ্যাম, জেলি ইত্যাদি তৈরি করতে পারি। এসব দ্রব্য তৈরি করতে যেমন কারিগরি জ্ঞান বা ব্যয়বহুল যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না, অন্যদিকে পুঁজিও কম লাগে। কৃষকরা গ্রামীণ পরিবেশে বা উৎপাদন এলাকায় ঘরে বসে এসব তৈরি করতে পারেন। ফলে একদিকে বেকার সমস্যা দূর হবে, অন্যদিকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ভাতের ওপর চাপ কমিয়ে খাদ্যাভাব ও পুষ্টির চাহিদার এক বিরাট অংশ মেটানো সম্ভব হবে। এতে করে অমৌসুমে বা বছরব্যাপী সংশ্লিষ্ট ফলের স্বাদ গ্রহণ করা যায়। তাছাড়া প্রক্রিয়াজাতকৃত দ্রব্যাদি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সাথে বহুলোক জড়িত থাকায় এদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

সুতরাং, দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে 'প্রাণ কোম্পানির' কর্মকাণ্ড অর্থাৎ পেয়ারা প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত বলে আমি মনে করি।

5 views

Related Questions