উক্ত ফসলটির অধিক পরিমাণ ফলন পেতে আজাদ সাহেবের গৃহীত পদক্ষেপের যথার্থতা মূল্যায়ন করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
অধিক পরিমাণ পিঁয়াজ উৎপাদনে উদ্দীপকের আজাদ সাহেব আগাছা, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জমিতে সময়মতো সেচ ও সার প্রয়োগ করেন।
আজাদ সাহেব বারি পিঁয়াজ-১ চাষ করেন। এ পিয়াজ অধিক ফলনশীল এবং স্টেম ফাইলাম ও পার্পল ব্লচ রোগ প্রতিরোধী জাত। তার এ জাত নির্বাচন সঠিক ছিল। তিনি আগাছা দমনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি পিঁয়াজ চারা বৃদ্ধির সময় আগাছা না গজানো বিষয়ে সচেতন ছিলেন বলে পিঁয়াজ চারা সতেজ ও বড় হয়েছিল। পিঁয়াজে সাধারণত থ্রিপস ও জাব পোকার আক্রমণ দেখা যায়। এ সকল পোকা দমনে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। থ্রিপস দমনে তিনি কয়েক ঘণ্টার জন্য প্লাবন সেচ দিয়েছিলেন। এতে মাটিতে বসবাসকারী পোকার কীড়াগুলো মারা যায়। এছাড়া তিনি কীটনাশক স্প্রে করেন। রোগ-বালাই দমনের লক্ষ্যে তিনি বীজ শোধন করে বপন করেন। তাছাড়া তার নির্বাচিত জাতটি রোগ প্রতিরোধী। এরপরও তিনি রোগ-বালাই সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ ও সার প্রয়োগ করেছিলেন। শুষ্ক মাটিতে পিঁয়াজ চাষে প্লাবন সেচ ও পরবর্তীতে ১-২টি সেচ দিয়েছিলেন। তিনি জমি প্রস্তুতি পর্যায়ে অধিকাংশ সার প্রয়োগ করেন। হেক্টর প্রতি তিনি ৫ টন গোবর, ইউরিয়া ২০০ কেজি, টিএসপি ১৮৫ কেজি, এমওপি ১৫০ কেজি, জিংক অক্সাইড ৩ কেজি ও জিপসাম ১১০ কেজি প্রয়োগ করেন। তিনি ইউরিয়ার তিনভাগের ২ ভাগ ও অন্যান্য সার জমি প্রস্তুতির শেষ ধাপে দিয়েছিলেন। অবশিষ্ট ইউরিয়া তিনি চারা রোপণের ২০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করেছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, আজাদ সাহেব পিঁয়াজ উৎপাদনের সকল আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তাই তিনি ভালো ফলন লাভ করেন।