1 Answers
উদ্দীপকে কুলের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে।
কুল বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফল। অম্লমধুর ও মিষ্টি স্বাদের জন্য প্রায় সব বয়সের মানুষ কুল পছন্দ করে। স্বাদ ও পুষ্টিমানের বিচারে কুল একটি উৎকৃষ্ট ফল। কুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' ও 'এ' আছে। এতে সাধারণত ৮৫.৯ ভাগ পানি, ০.৮ ভাগ আমিষ, ০.১ ভাগ স্নেহ ও ১২.৮ ভাগ লৌহ থাকে। এছাড়াও কুলের প্রতি ১০০ গ্রাম শাঁসে ৫৫ ক্যালরি শক্তি, ৭০ আই. ইউ. ক্যারোটিন ও ৫০-১৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন 'সি' বিদ্যমান। এই ফল রক্ত শোধক, রক্ত পরিষ্কারক ও খাদ্য হজমে সহায়ক। পাশাপাশি পেটে বায়ু ও খাদ্যে অরুচি, কোষ্ঠবদ্ধতা, বাত রোগে ও রক্ত শোধনে কুল থেকে তৈরি ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
অর্থনৈতিক দিক দিয়েও কুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফল। মাঠ ফসলের চেয়ে কুল চাষ করা লাভজনক। কারণ হিসেবে দেখা গেছে, বারিকুল বা বাউকুল এক বিঘা জমিতে চাষ করলে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করা যায়। জ্বালানির কাজে ফল গাছের ডালপালা, পাতা ব্যবহৃত হয়। মাঠ ফসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই, কম বাজারমূল্য, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি যা ফল চাষের ক্ষেত্রে কম। এছাড়া কুল থেকে তৈরি আচার, চাটনি, ক্যান্ডি ইত্যাদি খাবারের প্রচুর বাজার চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে কুলের শরবত ও অন্যান্য ফলের সাথে এটি মিশিয়ে জেলিও তৈরি করা হচ্ছে। কুলগাছে Tachardia lacca নামক এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র পোকা লালন করে লাক্ষা গালা তৈরি করা যায়।
সুতরাং আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, অর্থনৈতিক ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও রোগবালাই দূরীকরণে কুলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।