1 Answers
টাঙ্গাইলে গত বছর শীতকালীন তাপমাত্রার প্রভাবে শাকসবজির ফলন হ্রাস পায়।
কৃষি জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে তাপমাত্রা শস্যের সার্বিক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে থাকে। শীতকালীন শাকসবজির জন্য উপযোগী তাপমাত্রা হলো ২৫০-৩০° সে.। এর কম বেশি হলে বীজ গজাতে সময় বেশি লাগে বা গজায় না। যেমন- টমেটোর ২৫° সে. এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপির বীজের ২৬০ সে. তাপমাত্রায় স্বাভাবিক অঙ্কুরোদগম হয়। আবার পাতাজাতীয় শাকসবজির দৈহিক বৃদ্ধির জন্য উপযোগী তাপমাত্রা হলো ২৫০-৩০০ সে.। অধিক তাপে এদের পাতায় সঞ্চিত শর্করার পরিমাণ কম হয় ফলে ফলন হ্রাস পায়। রাতের তাপমাত্রার ওপর শাকসবজির অঙ্গজ বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভরশীল। কেননা রাতে কোষ বিভাজন দ্রুত হয়। তাপমাত্রা প্রয়োজনের কম বেশি হলে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শাকসবজির ফুল ও ফল উৎপাদনে কম তাপমাত্রার প্রয়োজন। টমেটোর ফুল উৎপাদনের জন্য ২১০ সে. এবং কুঁড়ির বৃদ্ধির জন্য ১৫০-১৮০ সে. তাপমাত্রা প্রয়োজন। তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে ফুল ধারণ বিলম্ব হয় আবার কোনো কোনো জাতে ফুল ধরে না। পরাগায়নের সময় তাপমাত্রা বেশি হলে গর্ভমুণ্ডের তরল পদার্থ শুকিয়ে যায়, ফল ধারণ করে না, শাকসবজির গুণগত মান হ্রাস পায়। আবার তাপমাত্রা ১০০ সে. এর নিচে হলে কোনো কোনো শাকসবজিতে ঠাণ্ডাজনিত ক্ষত হয়, ফলে ফলন কমে যায়।
অর্থাৎ, শীতকালীন তাপমাত্রার তারতম্য শাকসবজির উৎপাদনের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে ফলে ফলন হ্রাস পায়।