1 Answers
উদ্দীপকের রায়হানের বাবা তার জমিতে ধান চাষ করেন। ধান চাষের ওপর তাপমাত্রার প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা ধানের ফলনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। কতকগুলো একই জাতের ধানের বিভিন্ন মৌসুমে তাপমাত্রার প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যেমন- বিপ্লব (BR-3) ধানের চারা নভেম্বরে রোপণ করলে ডিসেম্বর-জানুয়ারির অধিক ঠান্ডা অর্থাৎ, কম তাপমাত্রার জন্য চারার বৃদ্ধি স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং জীবনচক্রকাল প্রায় ১৭৫ দিনে দাঁড়ায়। আবার, এপ্রিলে চারা রোপণ করলে কম ঠান্ডা অর্থাৎ অধিক তাপমাত্রার (৯০০-১০০০ ফা.) জন্য মাত্র ১২৫-১৩০ দিনের মধ্যে ধান কাটা সম্ভব হয়। এই ধান ৫০° ফা. তাপমাত্রা এর নিচে বেশি দিন থাকলে ধান গাছ হলুদ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কুশি হতে ছড়া বের হতে পারে না, চিটা ধানের পরিমাণ বেড়ে যায়। আউশ ধান দিন নিরপেক্ষ হলেও গরমের সময় এর ফলন বেশি হয়। অধিক ঠান্ডায় (৭০° ফা.-এর নিচে) গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলন অনেক কমে যায়। অধিক তাপমাত্রা (৪০° সে. এর উপর) ধান উৎপাদনের প্রধান অন্তরায়। কারণ উচ্চ তাপমাত্রায় পরাগরেণু অকেজো হয়ে পড়ে এবং গর্ভধারণ সংঘটিত হয় না। ধানের ছড়া বের হওয়ার সময় একে ৪১° সে. তাপমাত্রায় ১ ঘণ্টা রাখলে গর্ভধারণ শূন্যে নেমে যায়। পক্ষান্তরে, ৩৮০ সে. তাপমাত্রায় ১ ঘণ্টার ওপরে রাখলেও ৫০ হতে ৬০ ভাগ গর্ভধারণ সংঘটিত হয়ে থাকে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রায়হানের বাবার চাষকৃত ফসলের ওপর তাপমাত্রার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।