1 Answers
উদ্দীপকে সুমন তার ধানের জমিতে অ্যাজোলার চাষ, পৃথকীকরণ দূরত্ব বজায় রাখা, রোগিংসহ অন্যান্য পরিচর্যা ঠিকমতো করেন।
অ্যাজোলা এক প্রকার ক্ষুদেপানা জাতীয় সবুজ উদ্ভিদ যা মাটিতে নাইট্রোজেনের ঘাটতি পূরণে সক্ষম। প্রতি ৫ দিনে অ্যাজোলা এর দৈহিক ওজনের প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ে। অ্যাজোলা প্রতি হেক্টর জমিতে ২০০-৫০০ কেজি নাইট্রোজেন যোগ করতে পারে যা ৫৫০-১১০০ কেজি ইউরিয়া সারের সমতুল্য। প্রতি হেক্টরে ১-৩ টন অ্যাজোলা কালচার প্রয়োগ করা হলে ৮-১০ দিনের মধ্যে প্রায় ৮ টন জৈব সার পাওয়া যায়। এই জৈব সারে শুষ্ক ওজনের (Dry weight) ৪-৫% নাইট্রোজেন, ০.৫-১.০ শতাংশ ফসফরাস, ২.০-৬.০ শতাংশ পটাশ, ০.৫ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম, ০.৪-১.০ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ০.১১-০.১৩ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ ও ০.০০৬- ০.১৬ শতাংশ লৌহ থাকে। ফলে রাসায়নিক সার ব্যবহারে খরচ কম হয়। কয়েক বছর একাধারে ধানের সাথে এটি চাষ করলে মাটির বুনটের উন্নতি হয়। ফলে উৎপাদন ক্ষমতাও বেড়ে যায়। তাছাড়া সুমন তার জমিতে পৃথকীকরণ দূরত্ব বজায় রাখায় সব উদ্ভিদ পর্যাপ্ত ও সমপরিমাণে পুষ্টি উপাদান ও পানি গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও সুমন জমিতে রোগিং করেছিলেন। রোগিং এর মাধ্যমে তিনি জমি থেকে পোকা, রোগাক্রান্ত অস্বাভাবিক জাতের গাছ, আগাছা প্রভৃতি দূর করেন। যার ফলে তার কীট ও আগাছানাশক বাবদ খরচও কম হয়।
এসকল কারণেই সুমনের জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ কমে যায়।