1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষি কর্মকর্তার উক্তিটি হলো- প্রধানত চারটি কারণে মাটিতে ক্ষারত্ব সৃষ্টি হয়।
কোনো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের (H') তুলনায় হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) বেশি হলে তাকে ক্ষারীয় মাটি বলে। ক্ষারীয় মাটির অম্লমান ৭ এর বেশি। নিচে মাটিতে ক্ষারত্ব সৃষ্টির প্রধান চারটি কারণ দেওয়া হলো-
i. ক্ষারীয় শিলা থেকে সৃষ্ট মাটি, যেমন- চুনাপাথর, ডলোমাইট হতে সৃষ্ট মাটিতে চুনের পরিমাণ বেশি থাকে। বাংলাদেশে গঙ্গা প্লাবন ভূমিতে অধিক হারে শামুক-ঝিনুক থাকে বলে এ মাটিতে ক্ষারত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
ii. জলবায়ুর কারণে শুষ্ক অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে এখানে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের চুয়ানি কম হয়। ফলে মাটির ওপর স্তরে ক্ষারীয় দ্রব্য জমে মাটিতে ক্ষারত্ব বৃদ্ধি করে। আবার সেচের মাধ্যমে জমিতে যে পানি জমতে দেওয়া হয় সেই পানিতে লবণ থাকলেও মাটিতে ক্ষারত্ব সৃষ্টি হতে পারে।
iii. সামুদ্রিক লোনা পানির প্লাবনে এ অঞ্চলের জমি নিয়মিত প্লাবিত হয়, তাই মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যায়। লোনা পানিতে লবণ বেশি থাকে। অন্যদিকে সোডিয়াম আয়নের আধিক্য থাকে।
iv. জমিতে ক্রমাগত নিম্নমানের সেচের পানি অর্থাৎ অধিক সোডিয়ামযুক্ত পানি ব্যবহার করার জন্য মাটিতে ক্ষারত্ব দেখা দেয়। পানির সোডিয়াম জমির জৈব পদার্থসমূহকে দ্রবীভূত করে এবং এদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ফলে মাটির ক্ষারত্ব বৃদ্ধি পায় এবং মাটির সংযুক্তি নষ্ট হয়।
উপরের আলোচনা হতে দেখা যায়, কৃষি কর্মকর্তার উক্তিটি যথার্থ ছিল।