1 Answers
উদ্দীপকের বর্ণিত সমস্যা সমাধানে পশুসম্পদ কর্মকর্তার উক্তিটি ছিল- "কৃষি বন সৃষ্টির মাধ্যমে পশুখাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।” মাঠ ফসলে উৎপাদনকারী জমির আইলে বা অন্তর্বর্তীস্থানে এবং চারপাশে ফসলের কোনোরূপ ক্ষতি হয় না এমন সব প্রজাতির গাছ লাগিয়ে যে বনায়ন করা হয় তাকে কৃষি বন বলে। এ বনের উল্লেখযোগ্য বৃক্ষগুলো হলো বাবলা, কড়ই, তাল, খেজুর, খয়ের, ইউক্যালিপটাস ইত্যাদি। কৃষি বনায়নের অনেক সুবিধা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো পশুখাদ্য উৎপাদন। কৃষি বনায়নের ফসল বন, তৃণবন, কৃষি তৃণবনের ক্ষেত্রে পশুখাদ্য উৎপাদন করা অন্যতম একটি লক্ষ্য। ফলদ বৃক্ষ ও অন্যান্য ফসল এখানে চাষাবাদ করা হয় পশুখাদ্য হিসেবে। বড় ফলদ বৃক্ষের পাতা সংগ্রহ করে খরা ও বন্যার সময় পশুকে প্রদান করা যায়। এছাড়া অন্যান্য সময় রোপণকৃত ভুট্টা, সরগম পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কৃষি বনায়নের অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা, ফসলি জমির বহুবিধ ব্যবহার, গ্রামীণ জনজীবনে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়ন, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, মাটির ক্ষয়রোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ। অতএব, বাংলাদেশে পশুপালনের ক্ষেত্রে কৃষি বন পশু খাদ্যের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
উল্লিখিত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানে পশু সম্পদ কর্মকর্তার উক্তিটি যথার্থ।