1 Answers
উদ্দীপকে জমির মিয়ার দ্বিতীয় কর্মকাণ্ডটি হলো পশুপালন। বেকার সমস্যা পশুপালনের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো-
i. বিত্তহীন, ভূমিহীন দরিদ্র ব্যক্তি, বেকার যুবক কিংবা দুস্থ মহিলা ছাগল পালন করে দারিদ্র্য দূর করতে পারেন। ছাগলের চামড়া ও মাংস উৎকৃষ্ট মানের হয় এবং দেশে- বিদেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
ii. গাভি পালন করে দুধ বিক্রির মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠী প্রচুর আয় করতে পারে। তাছাড়া গরু মোটাতাজা করে মাংস বিক্রি করে কম সময়ে প্রচুর লাভবান হওয়া যায়। এছাড়া গবাদিপশুর খামারের সাথে সাথে গড়ে উঠে খাদ্য ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি তৈরির শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ। ফলে সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়ে, বেকারত্ব কমে এবং দারিদ্র্য বিমোচন হয়।
iii . ভেড়ার মাংস ছাগলের মতো সুস্বাদু। তাই ভেড়া পালন করে মাংসের ব্যবসা করা যায়। ভেড়ার দাম খুব কম হওয়ায় বেকার যুবক, দুস্থ মহিলা, দরিদ্র কৃষক সহজেই ভেড়া ক্রয় করে পালন করতে পারেন। কেবলমাত্র ভেড়া থেকেই পশম সংগ্রহ করা হয় যা লাভজনক পণ্য তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
iv. মহিষ পালন করে মহিষের গাড়ি ভাড়া দিয়ে বা জমি চাষ করে আয় বৃদ্ধি করা যায়। এছাড়া মহিষের দুধ দিয়ে মাখন, ঘি, দই, মিষ্টি, পনির তৈরি করে ব্যবসা করা যায়। ফসল মাড়াই, ইটের ভাটায় কাদা, আখ মাড়াই প্রভৃতি কাজের জন্য মহিষ ব্যবহার করে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করা যায়।
ছাগল ও ভেড়া পালনে শ্রম, মূলধন ও জায়গা কম লাগে। পাশাপাশি পশুর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা যায়। এছাড়াও গবাদিপশুর গোবর মাছের খাদ্য তৈরি, জৈব সার উৎপাদন প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করে থাকে।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বেকার সমস্যা সমাধানে প্রাণিসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।