1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় কৃষি কর্মকর্তার উক্তিটি হলো- মাটির ক্ষয়রোধ করার মাধ্যমেও ভূমি সংরক্ষণ করা যায়।
ভূমির মাটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাওয়া প্রতিরোধ করাই হচ্ছে ভূমিক্ষয় রোধ। মাটির ক্ষয়রোধ করার মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে ভূমি সংরক্ষণ করা যায়:
i. অত্যন্ত খাড়া ঢালে পানির অতি দ্রুত নিম্নগতির জন্য প্রচুর মাটি অপসারিত হওয়ার ফলে খাদ সৃষ্টি হয়। জমি চাষাবাদের মাধ্যমেও মাটির ক্ষয় ত্বরান্বিত হয়। আড়াআড়ি চাষ পদ্ধতিতে আইলের উপর ও তলদেশ ব্যতীত অন্যান্য স্থানে আড়াআড়িভাবে চাষাবাদ, বীজতলা প্রস্তুত ও ভূমি সংরক্ষণ করা হয়। নালা ও আইলের মধ্যে পানি আবদ্ধ রেখে মাটিতে পানি প্রবেশে সহায়তা করা হয়। এভাবে পানির সাথে মাটি গড়িয়ে যাওয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়।
ii . পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপবিশিষ্ট সমতল ভূমি প্রস্তুত করে তাতে কোথাও শুষ্ক চাষাবাদ আবার কোথাও প্লাবন ধানের চাষাবাদ করা হয়। আবার বড়মাটির বেদি বা বাঁধ আধুনিক চাষাবাদে বহুল প্রচলিত। এ ক্ষেত্রে পানি গড়িয়ে যাওয়ার গতি নিয়ন্ত্রণের উপযোগী করে ঢালের প্রতিকূলে বাঁধ তৈরি করা হয় যাতে ভূমির ক্ষয় কম হয়।
iii. তৃণভূমি গবাদিপশুর বিচরণ স্থল। এখানে বিভিন্নভাবে উদ্ভিদের বিনাশ ঘটে যা মৃত্তিকা ক্ষয়ের আর একটি কারণ। গবাদিপশুর অবাধ বিচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে ভূমিক্ষয় রোধ করা যায়।
iv. নদী বা সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে পাইন, ঝাউ ইত্যাদি বৃক্ষ রোপণ করে ভূমিক্ষয় রোধ করা যায়।
v. বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মাটি কর্ষণ করলে মাটির ক্ষয়রোধ করে মাটি সংরক্ষণ করা যায়।
উল্লিখিত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে মাটির ক্ষয়রোধ করার মাধ্যমে ভূমি সংরক্ষণ করা সম্ভব। তাই বলা যায়, ২য় কৃষি কর্মকর্তার উক্তিটি যুক্তিযুক্ত।