1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মকর্তার শেষোক্ত বক্তব্যটি হলো, 'ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহারের মাধ্যমে রোগজীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত এবং গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাব কমানো যায়।'

সাধারণ কম্পোস্ট তৈরির সময় কম্পোস্ট স্তূপে অনেক তাপ সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভার্মিকম্পোস্টে তেমন হয় না। ভার্মিকম্পোস্টে যে সকল এনজাইম বিদ্যমান আছে তা জৈব পদার্থের উপর রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে সেগুলোকে ছোট ছোট অণুতে পরিণত করতে সাহায্য করে। এর ফলে মাটিস্থ অণুজীবের সংখ্যা ও ক্রিয়া উভয়ই বৃদ্ধি পায়। কেঁচোর শরীর থেকে নিঃসৃত  সেলোসিক এসিড এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। সে কারণে ভার্মিকম্পোস্টে রোগজীবাণু থাকে না। ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার এ করলে ভূগর্ভস্থ বা ভূ - উপরিস্থ পানি দূষিত হবে না ।

অন্যদিকে, গবাদিপশুর জাবর কাটার সময় ও জৈব বস্তুসমূহ পচনের সময় কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং মিথেন গ্যাস পরিবেশে নিগমন হয়। কম্পোস্ট ও ভার্মিকম্পোস্ট তৈরির মাধ্যমে কার্বন গ্যাস কম্পোস্টে আটকিয়ে রাখা যায়। জমিতে কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করে মাটিতে কার্বন বৃদ্ধি করা যায় এবং বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস করা যায়। এতে মাটির গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়। গাছের বৃদ্ধি ও ফলনে ভার্মিকম্পোস্ট সাধারণ কম্পোস্টের তুলনায় ৫-৭ গুণ বেশি কার্যকর। ভার্মিকম্পোস্ট থেকে বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইডের নির্গমন অনেক কম হয়। আর গ্রিন হাউজ গ্যাস হিসেবে নাইট্রাস অক্সাইডের কার্যকারিতা কার্বন ডাইঅক্সাইডের তুলনায় ৩১০ গুণ বেশি ক্ষতিকর। সেহেতু ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহারের উপকারিতা অনেক বেশি।

অতএব বলা যায়, সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ পেতে ভার্মিকম্পোস্টের উপকারিতা সম্পর্কিত কর্মকর্তার বক্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

5 views

Related Questions