1 Answers

উদ্দীপকে নির্দেশিত জার্মান দার্শনিক অর্থাৎ কার্ল মার্কসের তত্ত্ব অনুসারে রণদীপ সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে নতুনকরে ভাবতে শুরু করে বলে আমি মনে করি।

জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক কার্ল মার্কসের সামাজিক বিবর্তনের ধারণার ভিত্তি দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। এ দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের মূল কথা হলো সব বস্তু বা প্রপঞ্চের বিকাশ ঘটে দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ সমাজ পরিবর্তনও দ্বন্দ্বেরই ফল। মার্কস এর মতে একটি প্রচলিত সমাজব্যবস্থার (Thesis) সাথে দ্বন্দ্ব চলে এ ব্যবস্থার বিরোধীদের (Anti-Thesis) এবং ফলশ্রুতিতে সম্পূর্ণ নতুন একটি সমাজব্যবস্থার সৃষ্টি হয় (Synthesis)। এ Synthesis ও সময়ের পরিক্রমায় Thesis এ পরিণত হয় এবং Anti-Thesis এর মাধ্যমে পুনরায় আরেকটি Synthesis-এর জন্ম হয়। এভাবে দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি, বস্তু বা সমাজের উৎপত্তি, বিকাশ ও পরিবর্তন ঘটে।

অন্যদিকে সমাজের উত্থান-পতন সম্পর্কে মুসলিম দার্শনিক ইবনে খালদুন ভিন্ন মত পোষণ করতেন। তিনি মনে করতেন সমাজ সদা পরিবর্তনশীল এবং এই পরিবর্তন ঘড়ির কাঁটার নিয়ম মেনে চলে। তিনি রাষ্ট্রের আয়ুষ্কাল সম্পর্কে বলেন যে, রাষ্ট্র টিকে থাকার তিনটি পর্যায় বিদ্যমান। প্রতিটি পর্যায় ৪০ বছর ধরে সর্বমোট ১২০ বছর পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে। উদ্দীপকের রণদীপ সমাজের উত্থান-পতন সম্পর্কে ইবনে খালদুনের এ মতকেই সঠিক বলে মনে করত। পরবর্তীতে সে কার্ল মার্কসের সমাজের বিকাশ সম্পর্কিত তত্ত্ব সম্পর্কে জানতে পারে। যার ফলে সে নতুন করে ভাবতে শুরু করে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, জার্মান দার্শনিক মার্কসের তত্ত্ব সম্পর্কে অবগত হয়ে রণদীপ সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করে।

4 views

Related Questions