1 Answers

আবিরের গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলায়। আর বগুড়া জেলায় আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হচ্ছে মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড়ের দুটি আকর্ষণীয় মন্দির হলো 'খোদাই পাথর ভিটা' ও 'গোবিন্দ ভিটা'। উক্ত মন্দির দুটি ছাড়াও মহাস্থানগড়ে আরও মন্দির রয়েছে। যেমন- বৈরাগীর ভিটা ও গোকুল মেধ।

বৈরাগীর ভিটা স্তূপটি প্রায় ৯২ মিটার দীর্ঘ এবং ৮ মিটার প্রস্থ। এটি সমতল ভূমি থেকে ৩ মিটার উচ্চে অবস্থিত। এখানে পাশাপাশি দুটি মন্দির রয়েছে, যা কারুকার্য খচিত ইট দ্বারা নির্মিত। স্থাপত্য কৌশল দেখে মন্দিরগুলোকে পাল আমলের বলে অনুমান করা হয়। মন্দির দুটির কাছে পানি নিষ্কাশনের জন্য কালো পাথর দ্বারা নির্মিত নালা রয়েছে। বৈরাগির ভিটা মন্দিরের দেয়ালে প্রাপ্ত পোড়ামাটির ফলক চিত্র দেখে ধারণা করা হয় যে, এটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের সমসাময়িক বা তার কিছু পরে নির্মিত।

মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে আবিষ্কৃত আরেকটি সুন্দর মন্দির হচ্ছে, গোকুল মেধ। মন্দিরটি মহাস্থানগড় থেকে এক মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৩ মিটার উঁচু এক ঢিবির উপর অবস্থিত। স্থানীয়রা একে লক্ষীন্দরের মেধ মন্দিরও বলে থাকেন। ধ্বংসাবশেষ দেখে মনে করা হয় যে, এটি বৌদ্ধদের একটি কেন্দ্রীয় উপাসনালয় ছিল। এর মধ্যে একটি নরকঙ্কাল পাওয়া গেছে। মনে করা হয় যে, এটি কোনো সন্ন্যাসীর কঙ্কাল। মন্দিরের অভ্যন্তরে একটি স্বর্ণপাত পাওয়া গেছে, যাতে ষাঁড়ের প্রতিকৃতি অঙ্কিত রয়েছে। স্বর্ণপাত দেখে ধারণা করা হয় যে, মন্দিরটি কোনো এক সময়ে শিব মন্দির ছিল। মন্দিরটি ৬ষ্ঠ বা ৭ম শতকে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মহাস্থানগড়ে খোদাই পাথর ভিটা ও গোবিন্দ ভিটা মন্দির দুটি ছাড়াও বৈরাগির ভিটা ও গোকুল মেধ নামক মন্দির রয়েছে।

5 views

Related Questions