1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্কৃতির ধরন তথা গ্রামীণ ও নগর সংস্কৃতি ছাড়াও বাংলাদেশে বিভিন্ন উপসংস্কৃতি পরিলক্ষিত হয়। এসব উপসংস্কৃতির পরিচয় নিচে উপস্থাপন করা হলো-
বাংলাদেশে উপসংস্কৃতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সংগঠিত জীবনযাপন পদ্ধতি, স্বকীয়তা ও গভীর জ্ঞাতি সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়। এদের জীবনযাপন প্রণালি, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, পেশা বা বৃত্তি, চাষাবাদ ইত্যাদি মূল ধারার সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন। এদের মধ্যে পরিবার প্রথা মূলত মাতৃতান্ত্রিক, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথাও দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য আরেকটি সংস্কৃতি হচ্ছে বেদে সংস্কৃতি। এদের জীবনযাপন প্রণালি, পেশা বা বৃত্তি, পরিবার প্রথা, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, পোশাক-পরিচ্ছদ, বিয়ে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি মূল ধারার সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন। এরা সাপের খেলা, বাঁদর খেলা, ঝাড়-ফুঁক, সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা ইত্যাদির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এদের স্থায়ী আবাসস্থল নেই। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপসংস্কৃতি হলো হিজড়া সংস্কৃতি। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, চালচলন, ভাষা, চলাফেরা ভিন্ন প্রকৃতির হয়। এরা দলবদ্ধভাবে বা এককভাবে হাট-বাজার, দোকান-পাট থেকে চাঁদা তুলে জীবিকা নির্বাহ করে।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশে প্রধান সংস্কৃতি ছাড়াও আরও অনেক উপসংস্কৃতি রয়েছে যেগুলো বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।