উদ্দীপকে উল্লিখিত যুগ কি নব্যপ্রস্তর যুগ থেকে ভিন্ন? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকে যে সমাজের আলোচনা করা হয়েছে তার বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, সমাজটি উচ্চ প্রাচীন প্রস্তর যুগের নির্দেশক। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এ যুগ বিভাগটি নব্যপ্রস্তর যুগ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
উচ্চ প্রাচীন প্রস্তর যুগের সময়সীমা হলো খ্রিষ্টপূর্ব ৩০,০০০ বছর থেকে ১০,০০০ বছর পর্যন্ত। এর পরবর্তী সময় থেকে অর্থাৎ খ্রিষ্টপূর্ব ১০,০০০ বছর থেকে ৩,৫০০ বছর পর্যন্ত নব্যপ্রস্তর যুগ স্থায়ী ছিল। উচ্চ প্রাচীন প্রস্তর যুগের চেয়ে নব্যপ্রস্তর যুগ অনেক আধুনিক জীবনমানকে নির্দেশ করে। উচ্চ প্রাচীন প্রস্তর যুগের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন, যেমন- বর্শা, হারপুন, হাড়ের তৈরি সুচ, তীর, ধনুক ইত্যাদি। এ যুগের মানুষরা ছবি আঁকতে জানত। এসব ছবির মধ্যে সে যুগের মানুষের শিল্পবোধ ও নানা বিশ্বাসের পরিচয় মেলে। এছাড়া এ যুগের মানুষ বিশ্বাস করত যে, মৃত্যু হলে আত্মা দেহ থেকে চলে যায়। উচ্চ প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিকারি সমাজে বাস করলেও মূলত যাযাবর ছিল। অন্যদিকে নব্যপ্রস্তর যুগের প্রধান দিকগুলো ছিল- সামাজিক সংগঠনের উদ্ভব, হাতিয়ার আবিষ্কারের দক্ষতা, অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ইত্যাদি। এ ছাড়া কৃষির আবিষ্কার, ব্যক্তি মালিকানার উদ্ভব ও বিনিময় প্রথার উৎপত্তি-এ যুগের প্রধান উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত। এ যুগেই মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ী বসবাসের জীবন শুরু করে এবং সমাজে পারিবারিক কাঠামো গড়ে ওঠে।
উপরে বর্ণিত উভয় যুগের বৈশিষ্ট্যের তুলনা করে বলা যায় যে, উচ্চ প্রাচীন প্রস্তর যুগ সম্পূর্ণভাবেই নব্যপ্রস্তর যুগের চেয়ে আলাদা একটি যুগ বিভাগ।