1 Answers

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ঋণদানই বেসরকারি সংস্থার একমাত্র কার্যক্রম- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে দ্বিমত পোষণ করি। কেননা, ক্ষুদ্র ঋণদানই বেসরকারি সংস্থার একমাত্র কাজ নয়। বরং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থাসমূহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা: বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি কর্মরত এনজিওসমূহ ত্রাণ কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

শিক্ষা বিস্তার: বাংলাদেশে বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার ৬৫%। অর্থাৎ বিপুল জনগোষ্ঠী আজও অশিক্ষিত ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। এনজিওসমূহ দেশে শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কৃষি উন্নয়ন: বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এনজিওসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ঋণদান, সেচ, বীজ ও সার সরবরাহ করে কৃষির উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে।

বেকার সমস্যা দূরীকরণ: এনজিওসমূহ বাংলাদেশে বেকার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

নারীর ক্ষমতায়ন: বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই (৪৯%) নারী। এনজিওসমূহ অজ্ঞ, অশিক্ষিত, দরিদ্র নারী সমাজকে ঋণদান এবং নানামুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলছে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণদানই বেসরকারি সংস্থার একমাত্র কাজ নয় বরং উল্লিখিত কার্যক্রমও বেসরকারি সংস্থাগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করছে।

6 views

Related Questions