আধুনিক সভ্যতার উন্মেষে উদ্দীপকে উল্লিখিত ধাতু দুটির অবদান অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
আধুনিক সভ্যতার উন্মেষে উদ্দীপকে উল্লিখিত ধাতু দুটি তথা লৌহ ও ব্রোঞ্জের অবদান অনস্বীকার্য।
পাথরের যুগ ও লৌহ যুগের মধ্যবর্তী যুগকে বলা হয় ব্রোঞ্জ যুগ। এ যুগে ব্রোঞ্জ দিয়ে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি ও অস্ত্র তৈরি করা হয়, যা মানুষের জীবনকে সহজ করে তোলে। ব্রোঞ্জ যুগে কৃষি উৎপাদনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হয়। ব্রোঞ্জ নির্মিত লাঙলের ফলা, কাস্তে, নিড়ানি কৃষিকাজকে সহজ করে দেয়। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এ উদ্বৃত্ত উৎপাদনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়-বাণিজ্যের বিকাশ ঘটে এবং তা আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে। নব্যপ্রস্তর যুগে যে চাকার আবিষ্কার হয় তাতে ব্রোঞ্জের বেড় লাগিয়ে আরও উন্নত করা হয়। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে, যা আধুনিক সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, লৌহের ব্যবহার মানবসভ্যতার বিকাশে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষিকাজের উদ্ভব যেমন মানুষের জীবনধারাকে পাল্টে দিয়েছিল, লৌহের ব্যবহার তেমনি মানুষের জীবনধারায় বিরাট পরিবর্তন এনেছে। লৌহের উদ্ভবের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রচালিত শক্তির ব্যবহার সম্ভব হয়েছে এবং শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়েছে। আমরা জানি, শিল্প নির্ভর সভ্যতার ভিত্তি যন্ত্রচালিত শক্তি এবং সেই শক্তিকে কাজে লাগাতে লৌহ অপরিহার্য। এছাড়া লোহার হাতিয়ার মানুষের কর্মশক্তিকে বর্ধিত করে এবং কার্যদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। এ যুগে ব্যবসায়ের প্রয়োজনে লিখিত ভাষার উদ্ভব হয়। কেননা ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য লেনদেন, বাণিজ্যিক চুক্তি, হিসাবপত্র প্রভৃতি বিষয়ে লিখিত দলিলের প্রয়োজন হয়। সর্বোপরি লৌহ যুগে যুক্তিনির্ভর চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটে। বিশেষ করে এ যুগে লৌহ নির্মিত ছাপাখানা আবিষ্কার হওয়ায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনীষীরা তাদের চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ করতে শুরু করেন, যার ফলে অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক বিশ্বাসের স্থলে যৌক্তিক এবং বৈজ্ঞানিক বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, আধুনিক সভ্যতার বিকাশে ব্রোঞ্জ ও লৌহ উভয় ধাতুর অবদানই অপরিসীম ।