1 Answers
হ্যাঁ, বর্তমান সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে অহনের বর্ণনাকৃত যুগ অর্থাৎ নব্যপ্রস্তর যুগের অবদান রয়েছে বলে আমি মনে করি। নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষরা খাদ্য সংগ্রহ অর্থনীতির স্থলে খাদ্য উৎপাদন অর্থনীতির সূচনা করে। নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষরা বীজবপণের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসল কাটা এবং তা প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে কৃষিকাজের সূচনা করে। এ যুগেই প্রথম পশুপালন অর্থনীতির উদ্ভব হয়। পশু শিকারের পাশাপাশি পশুপালন করার ফলে খাদ্যের নিশ্চয়তা আসে। নব্যপ্রস্তর যুগে হাতিয়ারেরও উন্নতি সাধিত হয়। এ যুগের মানুষ পাথরকে ঘষে একদিক ধারালো করে ফসল কাটার জন্য চাকু তৈরি করত। এছাড়াও কৃষিকাজের জন্য নিড়ানি, পাথরের কোদাল, আঁচড়া, গর্ত করার জন্য লাঠি প্রভৃতি ব্যবহার করত। এ সব হাতিয়ারের বিভিন্নতা যেমন ছিল, তেমনি এর মধ্যে প্রকৌশলগত দক্ষতার পরিচয়ও মেলে। নব্যপ্রস্তর যুগে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে, বয়ন শিল্প। বয়ন শিল্পের সাহায্যে এ যুগের মানুষ পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করে সুসভ্য হতে সক্ষম হয়েছিল। সেইসাথে বাসস্থানের নিশ্চয়তা, খাদ্যের সঠিক যোগান, প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুকূল অবস্থা নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষকে সভ্য জীবন গঠনের সুযোগ করে দিয়েছিল। এ যুগেই মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ী বসবাসের জীবন শুরু করে এবং সমাজে পারিবারিক কাঠামো গড়ে ওঠে। নব্যপ্রস্তর যুগের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হলো চাকা। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন। নব্যপ্রস্তর যুগে মানুষ আগুন জ্বালানো, আগুন দিয়ে খাবার সিদ্ধ করা, আগুন জ্বেলে বন্য পশুকে ভয় দেখানো এবং অস্ত্র তৈরিতে আগুনের ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করে।
পরিশেষে বলা যায়, নব্যপ্রস্তর যুগ মানবসমাজের ইতিহাসে পরিবর্তনের দিক থেকে একটি বৈপ্লবিক যুগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ যুগের কৃষি, পশুপালন, ঘরবাড়ি তৈরি, মৃৎশিল্প, বয়ন শিল্প এবং বিভিন্ন ধরনের আবিষ্কার বর্তমান সমাজ ও সভ্যতার বিকাশের ক্ষেত্রে অপরিসীম তাৎপর্য বহন করে।