1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় জাতের ধানটি হলো বোরো ধান। বোরো ধানের আধুনিক চাষ পদ্ধতির প্রথম ধাপটিই হলো জমি নির্বাচন করা। এক্ষেত্রে পলি দোআঁশ, পলি ও এঁটেল মাটি বিশিষ্ট, সমতল, মাঝারি নিচু ও নিচু জমি নির্বাচন করা হয়। কারণ এ ধরনের জমিতে ধানের ফলন ভালো পাওয়া যায়। বোরো ধানের জমি ৩/৪টি চাষ ও ১/২টি মই দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে জমিতে চারা রোপণ কাজ সম্পন্ন করতে হয়। চারার বয়স ৩৫-৪৫ হলে বীজতলা থেকে তুলে দ্রুত তা জমিতে রোপণ করতে হবে। ধানের চারা তৈরির জন্য ৪ ভাবে বীজতলা তৈরি করা হয়। যথা- i. শুকনো ii. কাদাময় iii. ভাসমান iv. দাপোগ। অভ্যন্তরীণ কাজের সুবিধা ও চারার পরিমাণ কম লাগার জন্য ৪ সারিতে চারা রোপণ করা হয়। এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেমি, গুছি থেকে গুছির দূরত্ব ১৫-২০ সেমি রাখতে হবে। প্রতি গুছিতে ২-৩টি চারা মাটির ২-৩ সেমি গভীরে রোপণ করতে হয়।
ধানের ফলন ভালো পেতে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে আগাছা ও রোগ দমন, সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে সেচ ও সার প্রদান করা। বোরো ধান চাষে ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ, গন্ধক ও দস্তা প্রয়োগ করা হয়। তবে সার প্রয়োগের পরিমাণ জাত ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। ধান চাষের প্রায় ২৫-৩০ দিনের মধ্যেই আগাছা দমন করতে হয়। চারা রোপণের পর থেকে ধান কাটা পর্যন্ত বোরো ধানে প্রায় ১০০০-১২০০ মিলি পানির প্রয়োজন হয়। তাই বোরো ধানে প্রায় ১৮-২০ বার সেচ দেওয়া হয়। এ ধান ব্লাস্ট, বাদামি দাগ, পাতা ধসা, কাণ্ড ও গোড়া পচা রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগগুলো দমনে অনুমোদিত কীটনাশক ক্লাস্টিসিডিন, ইন্ডোফিল, মেনকোজেব, কপার অক্সিক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও থ্রিপস, পাতাফড়িং, পামরী, মাজরা ইত্যাদি পোকার আক্রমণ দেখা যায়। যা আলোর ফাঁদ, হাতজাল এবং আক্রান্ত গাছ উপড়ে ফেলা, সার প্রয়োগ ইত্যাদির মাধ্যমে দমন করতে হয়। ধানের শীষের উপরের অর্ধেক দানার ৮০% ও নিচের অর্ধেক দানার ২০% শক্ত হলেই ধান কাটা হয়।
উপরিউক্ত পদ্ধতিতে বোরো ধানের আধুনিক চাষ করা হয়। যার জাতভেদে হেক্টরপ্রতি ৪.৫-৭ টন ফলন পাওয়া যায়।