1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র 'ক' হলো এস আর আই (SRI) পদ্ধতিতে ধান চাষ।
এস আর আই পদ্ধতিকে বলা হয় ধান চাষের নিবিড় ও আধুনিক পদ্ধতি। বিদ্যুতের অভাব, তেলের অধিক মূল্য, পানির অপ্রতুলতা এবং সেচ যন্ত্রের অদক্ষতা বিষয়ক জটিলতা ধান চাষকে ব্যয়বহুল করে তুলেছে। এস আর পদ্ধতিতে ধান চাষের ব্যবহৃত প্রযুক্তিগুলো এমনভাবে সমন্বিত করা হয়েছে যে এতে সেচের চাহিদা কম পানিতেই পূরণ করা যায়।
এ পদ্ধতিতে চারা বর্গাকারে রোপণ করা হয় বলে বীজ ও সার তুলনামূলকভাবে কম লাগে। এক্ষেত্রে ৭-১০ দিন বয়সী চারা প্রতি গোছাতে ১টি করে রোপণ করা হয়। এতে চারাগুলোর মধ্যে পুষ্টি, পানি ও জায়গার জন্যে প্রতিযোগিতা কম হয়। ফলে প্রতি গোছার চারা সমভাবে আলো-বাতাস পায়। এ পদ্ধতিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হয় বলে সার বাবদ খরচ কম এবং মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ হয়। পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হয় বলে সেচে খরচ কম হয় (প্রায় ৩৫%) এবং জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না। ফলে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ কম হয় এবং পরিবেশ ভালো থাকে। উৎপাদিত ধানে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হয়। এতে ফসল উৎপাদনের ঝুঁকি কমে যায়। পাশাপাশি ধানের কার্যকরী কুশির সংখ্যা বেশি ও গোছা বড় হয়। ফলে ফলনও বৃদ্ধি পায়। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে ফসলের মেয়াদ প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত কমে যায় বলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফসল কাটা যায় এবং আগাম ফসল হিসেবে মূল্য বেশি পাওয়া যায়। ধান উৎপাদনে কম সময় লাগে বলে জমি ব্যবস্থাপনায় বেশি সময় পাওয়া যায়।
পরিশেষে বলা যায়, এস আর আই পদ্ধতিতে অল্প খরচ ও কম সময়ে বেশি উৎপাদন পাওয়া যায় এবং পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে বলে এই পদ্ধতিতে চাষ ধান উৎপাদনের জন্য একটি যুগান্তরকারী পদক্ষেপ হতে পারে।