1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত চাকমারা নিজ গোষ্ঠী এবং গোষ্ঠীর বাইরে বিবাহ করে থাকে। অর্থাৎ তাদের মধ্যে অন্তর্বিবাহ ও বহির্বিবাহ প্রচলিত রয়েছে। আবার পাত্রী পছন্দের ব্যাপারে অভিভাবকদের মতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় যা বন্দোবস্ত বিবাহকে নির্দেশ করছে। তাদের মধ্যে বিদ্যমান বিবাহের ধরন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
আপন বা নিজ গোষ্ঠী, শ্রেণি ও গোত্রের মধ্যে বিবাহ করার রীতিকে অন্তর্বিবাহ বলে। আর নিজ গোষ্ঠী বা গোত্রের বাইরে বিবাহ সংঘটিত হলে তা বহির্বিবাহ হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় অন্তর্বিবাহ ও বহির্বিবাহ দুইই বিদ্যমান। ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী দেশ, জাতি, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে যে কোনো মুসলিম পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিবাহ সম্ভব। তবে এদেশে একই ভাষা ও সম আর্থ-সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিবাহের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। পক্ষান্তরে, হিন্দু সমাজে প্রধানত অন্তর্বিবাহ বিদ্যমান, বহির্বিবাহের সুযোগ নেই। তবে এর ব্যতিক্রম খুব সীমিত মাত্রায় হলেও আজকাল লক্ষ করা যায়।
যে বিবাহ বর ও কনের পরিবার দ্বারা আয়োজিত হয় তাকে বন্দোবস্ত বিবাহ বলে। এ বিবাহের ক্ষেত্রে বর ও কনে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে গ্রহণ করে। এ ধরনের বিবাহের ক্ষেত্রে সাধারণত বর-কনে পরস্পরের কাছে অপরিচিত থাকে। বাংলাদেশ সমাজ বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজে এ ধরনের বিবাহ অধিক প্রচলিত।