1 Answers

উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশকৃত নৃগোষ্ঠী হলো মণিপুরি। মণিপুরিদের বিবাহ রীতির সাথে বাঙালিদের বিবাহের নিয়ম-কানুনের মিল ও অমিল উভয়ই লক্ষ করা যায়।

মণিপুরিদের সমাজে একই গোত্রভুক্ত লোকদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ। যেমন- বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি শাখার গোত্র 'ক্ষুমল'-এর কোনো ছেলে সদস্য এই গোত্রের কোনো মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে না। তবে সে ইচ্ছা করলে 'মোইরাং' গোত্রের কোনো মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে। অর্থাৎ মণিপুরিদের মধ্যে বহির্বিবাহরীতি প্রচলিত। অন্যদিকে, বাঙালিদের বিবাহরীতিতে হিন্দুদের মধ্যে গোত্র বা বর্ণ সম্পর্কিত জটিলতা থাকলেও মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আবার মণিপুরিদের বিবাহে পাত্র - পাত্রী নির্বাচনের সময় অভিভাবকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। এ বিষয়টি বাঙালি হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বিবাহের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। যদিও বর্তমানে উভয় জনগোষ্ঠীতেই আধুনিক ধ্যান ধারণার প্রসার এবং নানারকম সামাজিক পরিবর্তনের ফলে পাত্র- পাত্রীর নিজস্ব মতামতকেও যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। মণিপুরিদের বিবাহ ব্যবস্থায় লিখিত কোনো চুক্তিপত্র (দলিল) সম্পাদন করা হয় না এবং তাদের বিবাহকার্যে যৌতুক গ্রহণ বা প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় এ বিষয়টিকে তারা অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখেন। অবশ্য স্বেচ্ছায় প্রদান করা উপঢৌকন গ্রহণে তাদের কোনো আপত্তি থাকে না। অন্যদিকে বাঙালিদের বিবাহে লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদন হয় এবং যৌতুক প্রথার প্রচলন থাকলেও এটি ঘৃণিত প্রথা হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। এছাড়া মণিপুরি এবং বাঙালি; উভয় জনগোষ্ঠীর মাঝেই ঘরজামাই ও থাকার প্রথা রয়েছে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মণিপুরি ও বাঙালিদের বিবাহরীতিতে কিছু বিষয়ে (সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, ঘরজামাই প্রথা ইত্যাদি) মিল থাকলেও মৌলিক কিছু বিষয়ে (পাত্র-পাত্রী নির্বাচন, চুক্তিপত্র সম্পাদন, যৌতুক গ্রহণ ইত্যাদি) অমিলও বিদ্যমান।

4 views

Related Questions