1 Answers
আইনের দৃষ্টিতে মাসুদ সাহেবের সব কর্মকাণ্ড অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
আইন ভঙ্গমূলক কাজই অপরাধ। কোনো রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ বা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ বা আচরণ প্রদর্শন করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হয়। কিন্তু সমাজে এমন অনেক কাজ ও আচরণ লক্ষ করা যায়, যা আইনে নিষিদ্ধ না হলেও সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণের পরিপন্থি। অর্থাৎ সমাজের মূল্যবোধ, রীতিনীতি, ঐতিহ্য ইত্যাদির মাপকাঠিতে যেসব কাজ বা আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অসমর্থিত অথচ আইনে নিষিদ্ধ নয় তা অবশ্যই সামাজিক বিচ্যুতি, তবে তা অপরাধ নয়। যেমন- পাপাচার, নীতিহীনতা, মিথ্যাচার, দরিদ্র, এতিম, অনাথের প্রতি অবিচার, পিতা-মাতার প্রতি সামাজিকভাবে কাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রদর্শন না করা ইত্যাদি সামাজিকভাবে অপরাধমূলক হলেও তা আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বদাই অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না।
উদ্দীপকে মাসুদ সাহেবের মিথ্যা কথা বলা, জুয়া খেলা, মদ্যপান করা ও বাবা-মাকে ঠিকমতো দেখাশোনা না করা সামাজিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও আইন নিষিদ্ধ নয়। এগুলোকে বিচ্যুত আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। পক্ষান্তরে, ঘুষ নেওয়া, আয়কর ঠিকমতো পরিশোধ না করা এবং গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতন করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে ।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মাসুদ সাহেবের সব কর্মকাণ্ড বিচ্যুত আচরণ হিসেবে গণ্য হলেও আইনের দৃষ্টিতে সব কর্মকান্ড অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।