1 Answers

উদ্দীপকে ফুটে ওঠা সূত্রটি হচ্ছে হার্বার্ট স্পেন্সারের জৈবিক সাদৃশ্য তত্ত্ব।

স্পেন্সারের সমাজ বিবর্তনের ধারণাটি তার জৈব বিবর্তনের তত্ত্ব থেকে উদ্ধৃত। জৈবিক অভিব্যক্তি সূত্রের সাহায্যে তিনি সমাজের ক্রমবিকাশের ব্যাখ্যা করেন। সামাজিক বিবর্তনকে তিনি দুটি পর্যায়ে বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথম পর্যায়ে তিনি সরল সমাজ থেকে বিভিন্ন স্তরের যৌগিক সমাজে বা জটিলতার সমাজে উন্নয়নের কথা বলেছেন। এ পর্যায়ে তার আলোচনায় তিনি চার ধরনের সমাজের কথা বলেছিলেন: সরল সমাজ, যৌগিক সমাজ, দ্বিগুণ যৌগিক সমাজ এবং ত্রিগুণ যৌগিক সমাজ। এ শ্রেণিবিভাজন প্রাথমিকভাবে পরিমাণ বা আয়তনভিত্তিক। তবে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়, যেমন- অধিকতর বিস্তৃত শ্রমবিভাগ, বেশি সুবিন্যস্ত রাজনৈতিক সংগঠন, ব্যাপক ধর্মীয় ভেদাভেদ বা উঁচু-নিচু স্তরভেদ, সামাজিক মর্যাদার স্তরবিন্যাস ইত্যাদিও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীকালে তিনি সামাজিক বিবর্তনের আর একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যাখ্যায় স্পেন্সার সমাজের দুটি ভাগ দেখিয়েছেন। যথা; সামারিক ভিত্তিক সমাজ বা যোদ্ধা সমাজ এবং শিল্পভিত্তিক সমাজ। যুদ্ধভিত্তিক সমাজে সকলকে কঠোর নিয়ম-নীতির অধীনে থাকতে হতো। সরকারের বিধি-নিষেধের কড়াকড়িতে ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল কুক্ষিগত। সরকারের নিময়-নীতির নিষেধাজ্ঞার চাইতে ধর্মীয় বিধিবিধানের কঠোরতা ছিল আরও বেশি। শিল্পভিত্তিক সমাজ কাঠামোতে ব্যক্তিস্বাধীনতা 'সামাজিক চুক্তির' মাধ্যমে বিকাশ ঘটে। সরকার হয় বিকেন্দ্রীভূত। সামাজিক স্তরবিন্যাস ব্যবস্থা অর্জিত মর্যাদার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হতে থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞানের উন্নয়ন ও ক্রমবিকাশের চলমান প্রভাবে স্পেন্সারের বিবর্তনবাদ যে শক্তিশালী গতিধারার সঞ্চার করেছিল, তা সমাজবিজ্ঞানের সীমিত গণ্ডিকে ব্যাপক পরিমণ্ডলে বিস্তৃত করতে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছে।

4 views

Related Questions