1 Answers
হেলাল মিয়া ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ গ্রহণ করার পরও আশানুরূপ লাভবান হতে পারেননি।
আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষক দরিদ্র হওয়ায় কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দিতে পারেন না। ফলে তারা বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে উৎপাদন কাজে ব্যয় করেন। কৃষির আধুনিকায়নের জন্যও প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন। তবে কৃষকেরা কৃষিকাজের জন্য ঋণ গ্রহণ করলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই ঋণের সঠিক ব্যবহার করেন না।
কৃষকেরা দরিদ্র হওয়ার দরুন কৃষিঋণ ব্যক্তিগত কাজে ও অনুৎপাদনশীল খাতে (যেমন- বাড়িঘর নির্মাণ, বিয়ে, ঈদ ইত্যাদি) ব্যবহার করে ঋণ শোধ করতে না পেরে ঋণখেলাপি হয়ে যান। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের (যেমন- বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ইত্যাদি) দ্বারা ফসল নষ্ট হলে বা গবাদিপশু মারা গেলে কৃষকেরা অভাবের ফলে আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কৃষিপণ্য সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারলে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায় বলে সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। ফলে কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। আবার অনেক সময় যে পরিমাণ ঋণ কৃষক গ্রহণ করেন তার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ কৃষিকাজে ব্যয় করেন। উল্লিখিত কারণ ছাড়াও ভূমির অনুর্বরতা, ফসলের ধরণ ও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। অতএব বলা যায়, এসকল প্রতিকূলতার কারণে হেলাল মিয়া লাভবান হতে পারেননি।