1 Answers

আমার মতে নীরব থাকা আজহার মিয়ার মতামত ছাড়াই গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ঠিক হয়েছে। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তিনটি পদ্ধতিতে ইজমা হতে পারে। এর একটি পদ্ধতি হলো- নীরবতামূলক ইজমা। নীরবতামূলক ইজমা বলতে এমন ইজমাকে বোঝায় যেখানে সৎকর্মশীল, মুত্তাকি ও কুরআন সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ অনুসারী মুজতাহিদদের মধ্যে কতিপয় মুজতাহিদ কোনো বিষয়ে কথা বা কাজের মাধ্যমে ইজমা করার পর বাকিদের মতামতের জন্য নির্ধারিত সময় দেবেন। উক্ত সময়ের মধ্যে কোনোরূপ প্রতিবাদ না আসলে বা অন্যরা নীরবতা অবলম্বন করলে ধরে নেওয়া হবে সে বিষয়টির ওপর বাকিদেরও মতৈক্য রয়েছে।

উদ্দীপকের আজহার মিয়া গ্রামের পরামর্শ সভায় উপস্থিত থেকেও নিজে কোনো মতামত দেননি বরং তিনি নীরব ছিলেন। আজহার মিয়ার এরূপ নীরবতাকে হানাফিরা সমর্থন হিসেবে গণ্য করেছেন। তাদের মতে কোন একজন মুজতাহিদের নীরবতার কারণেও ইজমা গ্রহণযোগ্য হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- আবু বকর (রা) এর যুগে জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার পক্ষে কতিপয় সাহাবি মৌখিক স্বীকৃতি দেন আবার কেউ নীরবতা পালন করেন। তবে শাফেয়িরা মনে করে, এ ধরনের ইজমা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাদের মতে নীরবতা পরিবেশগত কারণেও হতে পারে। যেমন- আওল এর মাসয়ালায় ইবনে আব্বাস (রা) ওমর (রা) এর মতের সাথে একমত ছিলেন না। কিন্তু নানাদিক বিবেচনা করে তিনি নীরব ছিলেন।

উপরের আলোচনা বিবেচনা করে আমি ওলামায়ে আহনাফের মতের সাথে একমত যে, নীরবতামূলক ইজমা গ্রহণযোগ্য হবে। তাই আজহার মিয়ার মতামত ছাড়াই গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ঠিক হয়েছে।

5 views

Related Questions