1 Answers
জলিল সাহেব ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত হজ আদায়ের ব্যাপারে যে উদাসীনতা দেখিয়েছেন তা সমর্থন করি না। হজ একটি ফরজ ইবাদত। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সংগতি আছে এমন মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। সামর্থ্য থাকলেও জলিল সাহেব এ ইবাদতটি পালন করেননি।
উদ্দীপকের জলিল সাহেব ব্যবসায়িক কাজে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করলেও হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাননি। হজ আদায়ের জন্য পরামর্শ দেয়া হলে তিনি বলেন, ইবাদতের জন্য দেশ ভ্রমণের দরকার নেই। অর্থাৎ তিনি হজ আদায়কে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। অথচ হজ ফরজ হওয়ার জন্য যেসব শর্ত প্রয়োজন তার সবই জলিল সাহেবের মধ্যে রয়েছে। হজ আদায়ের বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে আলাহ তায়ালা এরশাদ করেন, 'আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা এমন মানুষের ওপর ফরজ করা হয়েছে যার ঐ পর্যন্ত যাতায়াতের ক্ষমতা আছে' (সুরা আলে ইমরান-৯৭)। মহানবি (স) বলেন, 'যার ওপর হজ ফরজ করা হয়েছে সে যদি ফরজ হজ না করে তাহলে আমি বলতে পারি না যে ইসলামের আদর্শের ওপর মৃত্যুবরণ করল কি না (বুখারি)। আল্লাহর রাসুলের বাণী থেকে বোঝা যায়, কেউ যদি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ আদায় না করেন তাহলে তার কঠিন পরিণতি হবে, এমনকি ধর্মচ্যুত হওয়ারও সম্ভাবনা আছে।
উপরের আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি, ফরজ হওয়া সত্ত্বেও হজ আদায় না করার কারণে জলিল সাহেব অত্যন্ত গুনাহের কাজ করেছেন। তার উচিত যত দ্রুত সম্ভব হজ আদায় করা।