1 Answers
উদ্দীপকে হামিদ সাহেব বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আঙ্গুর চাষ করেন। তিনি তার বন্ধুর পরামর্শে আঙ্গুর বাগানে স্পেলিয়ার ট্রেনিং পদ্ধতি অবলম্বন করে লাভবান হতে পারবেন।
কোনো গাছকে একটি উপযুক্ত আকার, আকৃতি, কাঠামো দানের জন্য গাছের ডাল, শাখার সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণকে বৃক্ষের ট্রেনিং বলা হয়। গাছের উৎপাদন ও ব্যবহার উপযোগী কাঠের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য ট্রেনিং এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
স্পেলিয়ার ট্রেনিং পদ্ধতিতে খুঁটির সাহায্যে মাচা তৈরি করে গাছটিকে মাচা, খুঁটি বা তারের উপর বাড়তে দেওয়া হয় এবং মাটির সমান্তরালে তারের সাথে বেঁধে দেওয়া হয়। ফলে গাছ ও ফল মাটির সাথে লেগে না থাকায় মাটিস্থ অণুজীব দ্বারা গাছ ও ফল আক্রান্ত হয় না। গাছের কাঠামো শক্ত হয় ফলে গাছ ঝড় তুফানে ভেঙ্গে পড়ে না। এ পদ্ধতিতে গাছের উচ্চতা ১ মিটার হলে অগ্রভাগ ছাঁটাই করে দেওয়া হয়। ফলে পার্শ্ব কুঁড়ি জন্মায় এবং গাছের ফল ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এই পদ্ধতিতে বাগানে মানুষ চলাচলের সুবিধা হয়, গাছের পরিচর্যা এবং ফল সংগ্রহ করা সহজ হয়। অল্প জমিতে অধিক গাছ লাগানো সম্ভব হয়। এর ফলে বৃক্ষের ফলের আকার ও গুনগতমান বৃদ্ধি পায়। এই ভালো মানের ফল বাজারে অধিক দামে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যায়। এছাড়া ছাঁটাইয়ের ফলে থেকে যাওয়া অতিরিক্ত অংশ পাওয়া যায় যা থেকে জ্বালানির অভাব পূরণ করা যায়। এর ফলে গাছের রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমন কম হয়। ফলে কীটনাশক ক্রয়খাতে খরচ হয় না ও ফসল নষ্টের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
উপরের আলোচনা হতে দেখা যায় যে, হামিদ সাহেব আঙ্গুর বাগানের জন্য যে পদ্ধতিটি গ্রহণ করেছেন তার মাধ্যমে তিনি বিভিন্নভাবে লাভবান হবেন।